ইমরুল-সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসে জয়ের আশা জাগিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i22282-ইমরুল_সাকিবের_দুর্দান্ত_ইনিংসে_জয়ের_আশা_জাগিয়েও_হেরে_গেল_বাংলাদেশ
ইমরুল কায়েসের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং আর সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ইনিংসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গেল বাংলাদেশ। শেষ ৫২ বলে ৩৯ রান দরকার ছিল। হাতে ছিল ৬ উইকেট। উইকেটে থাকা কায়েস ও সাকিব যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল জয়টা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩ বল বাকি থাকতে ইনিংস গুটিয়ে গেলে ২১ রানে হারে বাংলাদেশ।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
অক্টোবর ০৭, ২০১৬ ২০:২৯ Asia/Dhaka
  • ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার পান জ্যাক বল
    ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার পান জ্যাক বল

ইমরুল কায়েসের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং আর সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ইনিংসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গেল বাংলাদেশ। শেষ ৫২ বলে ৩৯ রান দরকার ছিল। হাতে ছিল ৬ উইকেট। উইকেটে থাকা কায়েস ও সাকিব যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল জয়টা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩ বল বাকি থাকতে ইনিংস গুটিয়ে গেলে ২১ রানে হারে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ৪৭ ওভার ৫ বলে ২৮৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ৪১ রান সংগ্রহ করে। ইংলিশ শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন টাইগার বোলার শফিউল। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ভিঞ্চকে ব্যক্তিগত ১৬ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি।

এরপর ইংলিশদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান জেসন রয়কে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেন বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দলীয় ৬১ রানের মাথায় সাব্বিরের হাতে ধরা পড়েন ইংল্যান্ডের এ মারকুটে ব্যাটসম্যান। রয় ৪১ রান করেন।এরপরের ওভারেই সাব্বিরের সরাসরি থ্রুতে ব্যক্তিগত ৫ রান করে রান আউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন জনি বেইস্টরো। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে ডাকেট ও স্টোকস। ডাকেটকে ৬০ রানে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শফিউল।

ডাকেট ফিরে গেলেও দুইবার জীবন পাওয়া স্টোকস ক্যারিয়ারের প্রথম শতক হাঁকান। তবে শতরান করেই মাশরাফির বলে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়েন তিনি। স্টোকসের ১০১ রানের ইনিংসটি ৪টি ছয় ও ৮টি চারে সাজানো ছিল। এরপর মঈন আলীও উইকেটে টিকতে পারেননি। মাশরাফির বলে মাত্র ৬ রানে তামিমের তালুবন্দী হন তিনি।

তবে মাঠে নেমেই ঝড় তোলেন বাটলার। মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ৩৮ বলে ৬৩ রান করে সাকিবের বলে আউট হন বাটলার। ৪টি ছয় ও ৩টি চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস।

শেষ পর্যন্ত ৩০৯ রানে শেষ হয় ইংলিশদের ইনিংস। সফরকারীদের এই রান সংগ্রহে অবশ্য টাইগার ফিল্ডারদেরও বেশ অবদান রয়েছে! বেন স্টোকস ও বাকেটের ৪টি ক্যাচ ফেলে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মোশাররফ হোসেন রুবেল। তাছাড়া বাটলারেরও ক্যাচ ধরতে পারেনি তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফি, সাকিব ও শফিউল দুটি করে উইকেট নেন।

সেঞ্চুরির পর ইমরুল কায়েস

৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সতর্কভাবেই শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেছিলেন ৪৬ রান। কিন্তু শুরু থেকেই যেন কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন তামিম। দেখা যায়নি তাঁর স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ৩০ বলে করেছিলেন ১৭ রান। দশম ওভারে জ্যাক বলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন জেমস ভিনসের হাতে। তামিমের পর উইকেটে এসে সাব্বির শুরু করেছিলেন ঝড়ো ব্যাটিং। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি উইকেটে। ১৪তম ওভারে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে সাব্বিরকে (১৮) সাজঘরমুখী করেছেন ডেভিড উইলি।

৮২ রানের মাথায় দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়ে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ২৩তম ওভারে ২৫ রান করে আউট হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। রানখরা কাটাতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। আউট হয়েছেন মাত্র ১২ রান করে। পঞ্চম উইকেটে ১১৮ রানের জুটি গড়ে দলের জয় প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছিলেন সাকিব ও ইমরুল।

৪২তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিব সাজঘরে ফেরেন ৫৫ বলে ৭৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। পরের বলেই আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পরের ওভারেই আউট হন মাশরাফি। উইকেট বিলিয়ে দেন তিনিও। আর ৪৪তম ওভারের শেষ বলে ইমরুল আউট হয়ে যাওয়ার পরেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের আশা। ১১৯ বলে ১১২ রানের লড়াকু ইনিংস এসেছে ইমরুলের ব্যাট থেকে। পরের ব্যাটসম্যানরা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমান। শেষ পর্যন্ত ১৩ বাকি থাকতে ২৮৮ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন জ্যাক বল ও আদিল রশিদ। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন বল। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কারও জিতেছেন এই ডানহাতি পেসার। এছাড়া, আদিল রশিদ নিয়েছেন চারটি উইকেট।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘এই ম্যাচ আমাদের অবশ্যই জেতা উচিত ছিল। একেবারেই জেতার মতো অবস্থায় গিয়ে হারাটা আমাদের জন্য খুবই হতাশার। আসলে এর জন্য কাউকেই দোষ দেওয়া যায় না। এ রকম ম্যাচ হারলে খারাপই লাগে। দলের সবাই এতে খুবই হতাশ।’

এমন হার মেনে নেওয়া কঠিন বলেও মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এই ধরনের হার মেনে নেওয়া আসলেই কঠিন। শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা একটু সতর্কভাবে খেললে তাহলে হয়তো আমরা জিতেও পারতাম।’

আগামী রোববার (৯ অক্টোবর) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পরস্পরের মুখোমুখে হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড।

পার্সটুডে/এআর/৭