শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ (রোববার) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শীর্ষ দুই পদে তারা নির্বাচিত হন। এই কমিটি আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন। তা সমর্থন করেন পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এরপর জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। এই পদেও বিকল্প কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন।
সৈয়দ আশরাফের পাশাপাশি সভাপতিমণ্ডলীতে নতুন যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন- নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ ভট্টাচার্য (যশোর)।
পুরোনোদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীতে থাকছেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিগত কমিটির সভাপতিমণ্ডলী থেকে বাদ পড়েছেন নূহ আলম লেনিন।
চারটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদের তিনটিতে পুরোনোরাই বহাল আছেন। তারা হলেন- মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক পুরোনো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছেন আব্দুর রহমান। আর বর্তমান কোষাধ্যক্ষ এন এইচ আশিকুর রহমানই থাকছেন নতুন কমিটিতে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আওয়ামী লীগের ৮৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ২৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের মধ্যে ১৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩টি পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে। আজকের সম্মেলন থেকে জানানো হয়েছে, বাকি ৬০ পদ সভাপতি শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবেন।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয় আওয়ামী মুসলিম লীগের। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার ধারাবাহিকতায় পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি দলের নাম থেকে বাদ দেয়া হয়। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ১৯টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯তম জাতীয় সম্মেলন ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।#
পার্সটুডে/এআর/২২