রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনু্প্রেবেশ বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে: কামাল
-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধে বাংলাদেশে সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সামরিক বাহিনী নির্মম দমন-নিপীড়ন শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাড়িছাড়া হয়েছে বলে জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক ন্যাশনাল রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হামলায় ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫০ মুসলমান নিহত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ৬৯ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত চৌকিতে এক হামলার জের ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর পর থেকেই বাংলাদেশের টেকনাফে ঢোকার চেষ্টা করছে বহু রোহিঙ্গা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে শুক্রবার আরও তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ (রোববার) জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বর্ডার (সীমান্ত) অতিক্রম করে মিয়ানমারের কেউ যেন বাংলাদেশে অনু্প্রেবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"
চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ৮ হাজার চোরচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৮৬২ জন চোরাচালানীকে আমরা গ্রেফতার করেছি এবং এক হাজার ২৬১ কোটি টাকার মালামাল এ পর্যন্ত আটক হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিগগিরই চেকপোস্টে স্ক্যানিং মেশিন ও এর ব্যবহার চালু করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চোরাচালান অভিযান ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে অভিযানের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বর্ডার এলাকায় অভিযান আরও বাড়ানো হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।’
সভায় চোরাচালান মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভাগ ওয়াইজ চোরাচালান মামলায় এক হাজার ৪৮৮ জন আসামী সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।’
‘মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নির্মূলের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সর্বস্থরের জনগণের সমন্বয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সভায় আলোচনা করা হয়’ বলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।#
পার্সটুডে/এআর/২০