ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মানববন্ধন, মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাওয়ের দাবি
-
মানববন্ধনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ নেতারা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। কর্মসূচিতে আওয়ামী, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত সমর্থিত কয়েকশ' আইনজীবী অংশ নেন।
আজ (বুধবার) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে সাধারণ আইনজীবীরা মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাওয়ের দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা মানবিক কারণে নির্যাতিত উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়ারও আহ্বান জানান। এ সময় মানববন্ধনে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবির প্রতি সংহতি জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। তবে তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, "যারা সব সময় শান্তির কথা বলেন, তারা আজ কোথায়? মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের অধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। জাতিসংঘ যদি এ হামলা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতে পারে তাহলে আমরা মনে করব জাতিসংঘ একটি কাগুজে বাঘ।"
আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আর্তনাদ দেখতে পাই। সেখানে সন্তানের লাশ নিয়ে মাকে আহাজারি করতে হচ্ছে। এসব দৃশ্য জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা আর্তনাদ করছে যে, আমাদেরকে বাংলাদেশে জেলে হলেও রাখেন।"
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি কোনো দলের নয়। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সব দলের আইনজীবীরাই উপস্থিত হয়েছেন। কারণ মানবতাকে বাঁচাতে হবে। এ অবস্থায় সাধারণ আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশে জাতিসংঘ অফিসের সঙ্গে আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি দেখা করবে বলেও উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
তিনি বলেন, "আমরা সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করব। এছাড়াও অ্যামনেস্টিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আমরা দেখা করে নির্যাতন বন্ধের দাবি জানাব। তবে প্রাথমিকভাবে আগামী রবিবার সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।"
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, "মিয়ানমারে যা ঘটছে তা মানবাধিকারের চরম লংঘন। পৈশাচিক এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি বাংলাদেশস্থ জাতিসংঘ অফিসে দেখা করবে বলে আমি আশা করি। এরপরও জাতিসংঘ এই হামলা বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে জাতিসংঘ মিশন ঘেরাও করতে হবে।"
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামীপন্থি আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, "আমরা অবশ্যই এ ধরনের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাই। তবে একইসঙ্গে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেন সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি না হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয় সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।"
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, "আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত কোটি উদ্বাস্তু লোককে আশ্রয় দিয়েছিল। অথচ আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে পারছি না। নির্যাতিত মানুষ প্রাণভয়ে ফিরে আসলেও আমরা তাদেরকে পুশব্যাক করে ফিরিয়ে দিচ্ছি। অথচ চীন ও ফিলিপাইন এসব রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন তার দেশে এক ইঞ্চি খালি জায়গা থাকা পর্যন্ত তিনি শরণার্থী গ্রহণ করতে থাকবেন।"
মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সাং সূ চি'র নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ।#
পার্সটুডে/এআর/২৩