'রাখাইনের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সম্ভব নয়'
-
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শক করেন গাসান সালামাহ
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জাতিসংঘ মহাসচিবের রাখাইন বিষয়ক বিশেষ পরামর্শক ঘাশান সালামেসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জাতিসংঘ মহাসচিবের রাখাইন বিষয়ক বিশেষ পরামর্শক গাসান সালামাহসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন।
পরে (মঙ্গলবার) দুপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস)-এ সাবেক কূটনীতিক, অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের রাখাইন বিষয়ক বিশেষ পরামর্শক ড. গাসান সালামাহ সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইন রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এটি কেবল ধর্মীয় সমস্যা নয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সমস্যারও সমাধান করতে হবে। তাহলেই কেবল রাখাইন রাজ্যে তাদের নিয়ে যে সমস্যা তার অনেকটাই সমাধান হবে।
তিনি আরও জানান, গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযান চালানোর পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা দেখতে তারা বাংলাদেশে এসেছেন। বিশেষ করে, ওই সময় থেকে রোহিঙ্গারা কোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এসেছেন, সেটা জানাটাই তাদের এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের কারণ প্রসঙ্গে সালামাহ জানান, একমাত্র ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের ফলেই যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে চলে এসেছেন, তা নয়। এর সঙ্গে তাদের অধিকার, নাগরিকত্ব ও জীবিকার প্রশ্নগুলোও জড়িত। কাজেই তাদের নাগরিকত্বের সমস্যা সমাধান করাটাই অন্যতম প্রধান বিষয়।
আনান কমিশনের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মিয়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন এবং লেবানিজ নাগরিক গাসান সালামাহ।
এর আগে, গত শনিবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে ঢাকায় আসেন রাখাইন রাজ্য বিষয়ক তিন সদস্যের পরামর্শকরা। আগামীকাল (১ ফেব্রুয়ারি) তাদের বাংলাদেশ ত্যাগের কথা রয়েছে।
সফরকালে প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। শরণার্থীশিবিরের রোহিঙ্গারা প্রতিনিধিদলের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশের অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়ে একটি চিঠিও প্রতিনিধিদলের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে এলাকা, স্থান ও সময় উল্লেখ করে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৫০টি মসজিদ, ৫৪টি ধর্মীয় স্কুল ও ৩ হাজার ৩২৯টি ঘরবাড়ি, ১৯৬টি দোকানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া ৭৯৮ জন নারী ও কিশোরীকে ধর্ষণ, ৪৬৯ জনকে গুলি করে হত্যা, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালিয়ে ১০৮ জনকে খুন, নৌকা ডুবিয়ে ৭৮ জনকে হত্যা এবং ৯২০ জনকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয় বলে জানায় রোহিঙ্গারা।
রাখাইন রাজ্যের জনগণের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ তৈরির জন্য মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি গত বছর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেন। রাখাইন রাজ্যের সব নাগরিকের মানবিক ও উন্নয়ন, নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপাদানগুলোকে নিয়ে কমিশন সুপারিশ তৈরি করবে। কফি আনান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মিয়ানমারের ছয় নাগরিক ও তিন বিদেশি বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত এই কমিশন।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৩১