শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ, ম্যাচ সেরা তামিম
-
সেঞ্চুরির পর তামিম ইকবাল
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। শততম টেস্ট জয়ের পর উজ্জীবিত টাইগার বাহিনী তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
ডাম্বুলায় টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে ৩২৫ রানের বিশাল টার্গেট দেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের ১২৭, সাকিব আল হাসানের ৭২ আর সাব্বির রহমানের ৫৪ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২৩৪ রানে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে লঙ্কানরা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা করার আগেই মাশরাফির বলে লেগবিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার দানুস্তা গুনাথালাকা। এরপর অভিষেকে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে ৪ রান করা কুশাল মেন্ডিস শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়েন। আর নিজের প্রথম ওভারেই লংকান অধিনায়ক উপল থারাঙ্গাকে (১৯) ফেরান পেসার তাসকিন আহমেদ।
মাত্র ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলংকা। এরপর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন দিনেশ চান্দিমাল আর আসেলা গুনারত্নে। দলীয় ৮৭ রানে গুনারত্নেকে (২৪) মোসাদ্দেক হোসেনের তালুবন্দি করান সাকিব।
গুনারত্নে ফিরলেও শ্রীলঙ্কাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন দীনেশ চান্দিমাল। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৫৯ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।
এরপর বেশ ভালোই খেলছিলেন সিরিবর্ধনে ও পাথিরানা। তবে স্বাগতিকদের ষষ্ঠ ধাক্কাটা দেন মুস্তাফিজুর রহমান। সিরিবর্ধনেকে শুভাগতের ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার। ২৫ বলে ২২ রান করেন সিরিবর্ধনে।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আবার লঙ্কান ইনিংসে আঘাত করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফিরেই পাথিরানাকে প্যাভিলিয়নমুখী করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩২ বলে ৩১ রান করেন পাথিরানা।
এরপর সুরঙ্গা লাকমলকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। অপর প্রান্তে একাই লড়াইটা চালিয়ে যান থিসারা পেরেরা। মাত্র ২৮ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই অলরাউন্ডার। তবে ৫৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মুস্তাফিজের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় লঙ্কানদের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৫.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি, মাশরাফি ও মিরাজ দুটি করে এবং সাকিব-তাসকিন একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ৩২৪ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করালেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। পঞ্চম ওভারেই বিদায় নেন সৌম্য সরকার। সুরঙ্গা লাকমলের বলে উইকেটরক্ষক দীনেশ চান্দিমালকে ক্যাচ দেন সৌম্য। দলের রান তখন ২৯। ১৩ বলে দুই চারে ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সৌম্য।
সৌম্য আউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কান বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তামিম-সাব্বির। প্রথম ২৪ রান করতে ছয়টি চার হাঁকান সাব্বির। তামিমও খেলেন নিজের নামের প্রতি সুনাম রেখে। আক্রমণাত্মক খেলে ৪৮ বলেই অর্ধশতকে পৌঁছান সাব্বির। তবে এরপরই গুনারত্নের বলে থারাঙ্গাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান হার্ডহিটার এই ব্যাটসম্যান। ৫৬ বলে ৫৪ রান করেন সাব্বির। তামিম-সাব্বির জুটিতে থেকে আসে ৯৫ রান। পরের ওভারে মুশফিকের উইকেটটি নিয়েছেন লক্ষ্মণ সান্দাকান।
সাব্বির আউট হওয়ার পর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে স্কোরের চাকাটা সচল রাখার কাজ করেন তামিম ইকবাল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৪৪ রান যোগ করেন তামিম-সাকিব। দলীয় ২৬৪ রানে আউট হন সাকিব। ৭১ বলে ৭২ রান করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
৪৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হন তামিম। ১৪২ বলে ১২৭ রান করেন তিনি। ১৫টি চার ও একটি ছক্কা মারেন তামিম। শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩২৪ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
ঝলমলে ১২৭ রানের ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা হন তামিম ইকবাল। তিনি ১৪২ বলে ১ ছক্কা ও ১৫টি চারে দৃষ্টিনন্দন ইনিংসটি সাজান।#
পার্সটুডে/এআর/২৫