আত্মতুষ্টির কারণে পাসের হার বাড়ানোয় শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটেছে: খালেদা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i37864-আত্মতুষ্টির_কারণে_পাসের_হার_বাড়ানোয়_শিক্ষার_মানের_ক্রমাবনতি_ঘটেছে_খালেদা
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আত্মতুষ্টির জন্য পাসের হার বাড়িয়ে আমাদের শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী দিনে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে, আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব।’
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মে ১৩, ২০১৭ ২০:৪৩ Asia/Dhaka
  • আত্মতুষ্টির কারণে পাসের হার বাড়ানোয় শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটেছে: খালেদা

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আত্মতুষ্টির জন্য পাসের হার বাড়িয়ে আমাদের শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী দিনে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে, আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব।’

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে শিক্ষাবিদ নই, কিন্তু বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে দেখেছি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এমন পরিবর্তন প্রয়োজন যা দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করবে, শিক্ষার সুফল সব মানুষের জীবনে পৌঁছাবে। শিক্ষা হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উন্নত জাতি হিসেবে আমাদের পরিচিতি ও মাধ্যম। শুধু সীমিত লোকের অর্থ বা বিত্ত দিয়ে আমরা এই পরিচিতি অর্জন করতে পারব না।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘শিক্ষা মানুষকে গণতন্ত্রের প্রতি, ভিন্নমতের প্রতি, ভিন্নমত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষার এই মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করছে। তারা শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। বিরোধীমতের লোকজনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। মোদ্দাকথায়, শিক্ষার সব উদ্দেশ্য আজ ভুলুণ্ঠিত। সুশাসন, আইনের শাসন আজ নেই বললেই চলে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষমতাসীন সরকার সব বিরোধীমতকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, ‘জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনব, প্রতিষ্ঠা করব মানুষের অধিকার। আমরা জানি এ লড়াই কঠিন লড়াই। কিন্তু যে জাতি লড়াই করে স্বাধীন হয়েছে, তাদের কাছে এ লড়াই কোনো কঠিন লড়াই নয়। একজন মানুষের পরিপূর্ণ জীবন লাভের পূর্বশর্ত হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা থাকলেই মানুষ সব দুর্যোগ, দুর্ভোগের মোকাবিলা করতে পারে। আপনারা একটু চিন্তা করলেই দেখবেন, আমাদের দেশে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসব ক্ষেত্রে লেখাপড়া জানা মানুষের চেয়ে লেখাপড়া না জানা ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত মানুষের সংখ্যা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, শিক্ষা মানুষকে শুধু হাতেকলমে পড়তে, লিখতে ও অঙ্ক করতেই শেখায় না। শিক্ষা মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, শিক্ষা মানুষকে মর্যাদা দেয়। এই মর্যাদার জন্যই মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সংগ্রামে লিপ্ত হয়। মর্যাদাবিহীন মানুষ সব সময় সমাজে উপেক্ষিত থাকে। আমাদের সমাজে এই উপেক্ষার হার অনেক বেশি। এ কারণেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জীবনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের মানুষকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে। এ কথা আজ স্বীকার করতে হবে যে, আত্মতুষ্টির কারণে পাসের হার বাড়িয়ে আমাদের শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী দিনে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে, আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যবস্থার লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন। এই ভিন্নতার সঙ্গে সমাজে বিরাজমান যে শ্রেণি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আছে তা সম্পর্কিত। উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, সমাজ যেখানে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য নিজেই অর্থের সংস্থান করে, সমাজের সুবিধাভোগীরা সেখানে ভিন্ন ধরনের শিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রচলিত সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। কারণ, সব শিক্ষার মধ্যেই ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা আছে। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিএনপির নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। যেভাবে দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে তার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে আমাদের চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে। এ কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া তাঁর ১৯-দফা কর্মসূচিতে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার কথা বলেছিলেন।’

বিএনপির ‘রূপকল্প-২০৩০’ সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জন-ইচ্ছার প্রতিফলনে আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি শিক্ষাব্যবস্থাকে কেমন করে জনকল্যাণমুখী করবে তা আপনারা এরই মধ্যে ‘ভিশন-২০৩০’ থেকে জেনেছেন। ক্ষমতায় গেলে প্রথম পাঁচ বছরেই আমরা এসব বাস্তবায়ন করতে পারব না। শিক্ষা খাতে জিডিপির শতকরা পাঁচভাগ ব্যয় করে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও অন্যান্য শিক্ষা সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। আমরা এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব যাতে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের হাতিয়ার হবে না, হবে জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার হাতিয়ার।’

সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেমিনারের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দীন আহমদ। দিনব্যাপী সেমিনারে উচ্চশিক্ষা ও প্রাগ্রসর শিক্ষা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষার দর্শন নিয়ে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে ছাড়া ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও শাহ শামীম আহমেদ, শিক্ষায় বিভিন্ন ধারা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।#

পার্সটুডে/এআর/১৪