প্রস্তুতি ম্যাচ: বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়
-
ফাহিম আশরাফ ও হাসান আলী
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। নবম উইকেট জুটিতে অসাধারণ খেলা ফাহিম আশরাফ ও হাসান আলী পাকিস্তানকে এই নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন। তারা ৯৩ রানের দারুণ একটি জুটি গড়ে দলকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।
শনিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে তামিমের সেঞ্চুরির সঙ্গে ইমরুল কায়েসের ফিফটি এবং মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটে ৩৪১ রান করে বাংলাদেশ।
বিশাল রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই ওপেনার আজহার আলী ও ওয়ানডাউনে খেলতে নামা বাবর আজমের উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। অবশ্য তৃতীয় উইকেট জুটির দৃঢ়তায় কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে দলকে শুধু বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেননি, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে লড়াইয়ে ফেরেন তারা। এরপর অবশ্য হাফিজ ৪৯ রানে সাজঘরে ফিরে যান। দারুণ দৃঢ়তা দেখানো মালিক আউট হন ৭২ রানে। অধিনায়ক সরফরাজ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের শিকার হয়ে। এর কিছুক্ষণ পর ইমাদ ওয়াসিম ও শাদাব খান ফিরে গেলে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে সাহায্য করেন ফাহিম আশরাফ। তিনি ৩০ বলে ৬৪ রান করেন। চারটি চার ও চারটি ছক্কার মার ছিল তাঁর এই ইনিংসে। আর হাসান ১৫ বলে ২৭ রান করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন। মাশরাফি, তাসকিন, সাকিব, শফিউল ও মোসাদ্দেক দখল করেন একটি করে উইকেট।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে করেছে ৩৪১ রান বাংলাদেশ। বাংলাদেশের শুরুটা হোঁচটে হয়েছিল। জুনাইদ খানের বলে মাত্র ১৯ রানে সৌম্য সরকার বাবর আজমের ক্যাচ হন। এর পর ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান তামিম ও ইমরুল। দ্বিতীয় উইকেটে ১৪২ রানের শক্তিশালী জুটি গড়েন তারা। হাফসেঞ্চুরি পাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইমরুল। ৬২ বলে ৮ চারে ৬১ রানে সাদাব খানের শিকার তিনি। তবে তামিম অপর প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রেখেছিলেন।
মুশফিকের সঙ্গে মাত্র ৪০ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে ফিরতে হয় তাকে। সাদাব তাকে ফেরান। জুনাইদের ক্যাচ হওয়ার আগে তামিম ৯৩ বলে ৯ চার ও ৪ ছয়ে ১০২ রান করেন।
মুশফিক ৩টি করে চার ও ছয়ে হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩৫ বলে ৪৬ রানে তিনি জুনাইদের শিকার হলে দুর্বার রানের গতি কিছুটা কমে যায়।
হাসান আলী তার এক ওভারে মাহমুদউল্লাহ (২৯) ও সাকিব আল হাসানকে (২৩) ফেরালে পরের ব্যাটসম্যানরা বড় অবদান রাখতে পারেনি। মোসাদ্দেক ১৫ বলে ২৬ রানের ছোট ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের জুনাইদ খান তার শেষ ২ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ৯ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। দুটি করে পান হাসান ও শাদাব।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ পেয়েছে বাংলাদেশ। ৩০ মে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবে।#
পার্সটুডে/এআর/২৮