ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েও হারল বাংলাদেশ
-
ইংলিশদের জয়ের নায়ক জো রুট ও মরগান
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের করা ৩০৫ রান তাড়া করে মরগানের দল জিতেছে ১৬ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই। যা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড।
টসে হেরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের ১২৮, মুশফিকুর রহিমের ৭৯ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ গড়েছিল ৩০৫ রানের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের নতুন রেকর্ড। অবশ্য শুরুতে দেখেশুনে খেলছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ৭ ওভারে ২০ রান তোলার পর খানিকটা মেরে খেলেন দুজন। তবে বেন স্টোকসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় সৌম্যকে। ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ২৮ রানে বদলি জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দেন তিনি। ১১ রানে মঈন আলীর হাতে জীবন পেয়েছিলেন এ ওপেনার। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বেশি লম্বা করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। ৩৯ রানের জুটি গড়ে তিনি লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে সাজঘরে ফেরেন। অসাধারণ এক ক্যাচ ধরে ১৯ রানে ইমরুলকে থামান উড।
ইমরুল আউট হলেও তামিম ৭১ বলে ৩৭তম হাফসেঞ্চুরি করেন। মুশফিকুর রহিম ৪৮ বলে করেন ২৫তম হাফসেঞ্চুরি। এই জুটিতেই আসে সর্বোচ্চ ১৬৬ রান। তামিম ১২৮ রানে বিদায় নেয়ার পর থিতু হতে পারেননি মুশফিকও। পরের বলেই প্লাঙ্কেটের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৭৯ রানে ব্যাট করতে থাকা মুশফিক। ৭২ বলের ইংনিংসে ছিল ৮টি চার। পরের ওভারে সাকিব ১০ রানে বলের ডেলিভারিতে ও সাব্বির রহমান ২৪ রানে প্লাঙ্কেটের বলে বিদায় নেন। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ৬ ও মোসাদ্দেকের ২ রানে ৩০৫ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
৩০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাশরাফির তৃতীয় ওভারেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন জেসন রয়। ব্যক্তিগত ১ রানে ক্রিজে থাকা রয়ের দর্শনীয় এক ক্যাচ ধরেন মোস্তাফিজুর। তবে এরপরেই ব্যাট হাতে জবাব দিতে থাকেন অ্যালেক্স হ্যালস ও জো রুট। এই জুটিতেই এসেছে ১৫৯ রান। ২৮তম ওভারে অবশেষে এই জুটি ভেঙেছেন সাব্বির। শতকের খুব কাছাকাছি এসেও হতাশ হতে হয়েছে হেলসকে। ফিরে গেছেন ৯৫ রান করে। তারপর খেলতে নামেন ইংলিশ অধিনায়ক মরগান।
৩৬তম ওভারে বাউন্ডারি লাইনে দারুণ এক ক্যাচ ধরেছিলেন তামিম ইকবাল। ওয়েন মরগান যে আউট ছিলেন, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না তামিমের। কিন্তু মাঠের আম্পায়ার শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছিলেন নট আউটের কথা। থার্ড আম্পায়ারও সেই সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছিলেন। সেসময় মরগান করেছিলেন ২৩ রান। এই সময়ে একটি উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু সেই মরগান পরে ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। তার ৬১ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছয়।
ইংল্যান্ডের জয়ের মূল নায়ক অবশ্য জো রুট। ১১টি চার ও ২টি ছয়ে ১৩৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।#
পার্সটুডে/এআর/২