রাখাইনে আবারও হামলা; ১৪৬ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাল বিজিবি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২৪টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে কথিত হামলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৯ জন রোহিঙ্গা মুসলিম ও ১২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টা থেকে আজ (শুক্রবার) ভোর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। লড়াই এখনো চলছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাই হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর রাজ্যটিতে নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। গত বছরের অক্টোবরে একই ধরনের হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংস অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।
ওই সেনা অভিযানে বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ ওঠে। সহিংস অভিযানের কারণে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। নতুন করে হামলার ঘটনায় আবারও বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করেছে সংখ্যালঘু মুসলমানরা।

এদিকে, জীবন বাঁচাতে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আবারও বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। অনুপ্রবেশকালে নাফ নদীর তীরে কয়েকশ রোহিঙ্গাকে বাধা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কক্সবাজার সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় ১৪৬ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করে মানবিক সহায়তা দিয়ে পুনরায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠায় বিজিবি। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, মিয়ানমারে আবারও পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলা ও হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিরসনে গঠিত কমিশনের প্রধান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। হামলার কিছু পরেই কফি আনান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
কফি আনান বলেন, এ হামলা নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন এবং এ ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। হামলায় নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণ হারানোর ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত। আর এ ধরনের হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ নেই। সব সম্প্রদায় ও দলকে সহিংসতা বর্জনের আহ্বানও জানান তিনি।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৫