শুক্রবার থেকে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন কাজে সেনাবাহিনী: কাদের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i46269-শুক্রবার_থেকে_রোহিঙ্গাদের_ত্রাণ_কার্যক্রম_ও_পুনর্বাসন_কাজে_সেনাবাহিনী_কাদের
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন কাজে শুক্রবার থেকে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ ১২:০৬ Asia/Dhaka
  • ত্রাণ বিতরণ করছেন ওবায়দুল কাদের
    ত্রাণ বিতরণ করছেন ওবায়দুল কাদের

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন কাজে শুক্রবার থেকে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টার দিকে টেকনাফে দ্বিতীয় দফায় ১০৭ মেট্রিক টন ভারতীয় ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময়, ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয় এ কারণে সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশে আসছে। তাই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শুক্রবার থেকে সেনাবাহিনী পুরোদমে কাজ শুরু করবে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সজাগ রয়েছে।

‌এদিকে, ত্রাণ বিতরণসহ সব ধরনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সচিবালয়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও জানান, কক্সবাজারে প্রতিদিন ৩০ হাজার শরণার্থীদের খাবার দিচ্ছে তুরস্ক। এছাড়া, জেলা প্রশাসন ১ লাখ ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ২ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে খাবার দিচ্ছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ২৮ মিলিয়ন, সৌদি ১৫ মিলিয়ন, জাতিসংঘ ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা ত্রাণ সামগ্রী দিচ্ছে। দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে এ পর্যন্ত ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন আটাসহ অন্যান্য ত্রাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আগামী ৪ মাস ৪ লাখ প‌রিবা‌রকে খাদ্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

ত্রাণমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ২৪ হাজার। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৫ জনের। আগামী দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদফতরের অধীনে সেনাবাহিনী এ কাজ করছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৬টি মেডিক্যাল টিম কাজ সেখানে কাজ করছে। 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ

'রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে'

অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টায় কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলাপুরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

এরশাদ বলেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আর বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে চাপ দিতে হবে। এ সময়, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানান সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২১