রোহিঙ্গা সমস্যর সমাধান মিয়ানমারের হাতে: জাতিসংঘ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i46447-রোহিঙ্গা_সমস্যর_সমাধান_মিয়ানমারের_হাতে_জাতিসংঘ
বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্র্যান্ডি বলেছেন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের হাতেই রয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭ ১৪:৩৭ Asia/Dhaka
  • জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্র্যান্ডি
    জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্র্যান্ডি

বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্র্যান্ডি বলেছেন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের হাতেই রয়েছে।

আজ (রোববার) কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্র্যান্ডি। সফরের প্রথম দিন শনিবার তিনি কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।

ফিলিপ গ্র্যান্ডি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা আগে বন্ধ করতে হবে। এরপরই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নিহত হয়েছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও ক্ষমতাধর দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।

ত্রাণের আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর সর্বশেষ সহিংসতার কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এতে নেপিদো’র সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে টান টান উত্তেজনা চলছে। এ অবস্থায় উদ্বেগে ভারত।

ভারতীয় পত্রিকা ডেকান'র অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার ছায়া পড়েছে বিমসটেকে। বিমসটেকে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টা রয়েছে ভারতের। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তাতে ভারত উদ্বিগ্ন।

ভারত চাইছে ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন’ বা বিমসটেকের মাধ্যমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। কিন্তু নেপিদো ও ঢাকার মধ্যকার বোধগম্য অবনতিশীল সম্পর্কে সেই প্রত্যাশা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে নয়া দিল্লিতে।

এদিকে, সার্কের শীর্ষ সম্মেলন নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর নভেম্বরে এ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও গত বছর তা ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অবনতির কারণে হয়নি। এবারও কোনো তোড়জোড় নেই। হাতে আর মাত্র একটি মাস সময়। এর মধ্যে এ আয়োজন সম্পন্ন করার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

তবে এ সম্মেলন না হওয়া ও বিমসটেকের সম্মেলনের ওপর ছায়া পড়ার কারণ ভিন্ন। বিমসটেকের পরবর্তী সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে এ বছরের শেষের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারের কড়া সমালোচনা করবে ঢাকা। এরই মধ্যে নয়া দিল্লিকে জানান দিয়েছে ঢাকা।

তারা বলেছে, অং সান সুচি যদি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেন এবং মিয়ানমারের এসব মানুষের নিরাপত্তা, তাদের মর্যাদা ও নাগরিকত্বের অধিকার না দেন তাহলে বিমসটেকসহ আন্তর্জাতিক সব ফোরাম ব্যবহার করে নেপিদো’কে আক্রমণ করবে ঢাকা।

এদিকে, আজ সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে সরকার। তাদের শরণার্থী হিসেবে মর্যাদা দেয়ার কোনো চিন্তা আপাতত নেই সরকারের।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪