মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে আলোচনায় এসেছে: দেশে ফিরে শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i47111-মিয়ানমার_আন্তর্জাতিক_চাপে_আলোচনায়_এসেছে_দেশে_ফিরে_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "আমরা প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের মাত্রা দেখে তাদের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলে দিয়েছি। মিয়ানমার এখন আন্তর্জাতিক চাপে আলোচনায় এসেছে। আমি মিয়ানমারকে আলোচনা শুরু করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করছি, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে পারব।"
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ০৭, ২০১৭ ০৮:২২ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "আমরা প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের মাত্রা দেখে তাদের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলে দিয়েছি। মিয়ানমার এখন আন্তর্জাতিক চাপে আলোচনায় এসেছে। আমি মিয়ানমারকে আলোচনা শুরু করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করছি, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে পারব।"

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আমেরিকা ও ব্রিটেন সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সামনে দেয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ বিপন্ন মানবতাকে আশ্রয় দিচ্ছে। মানুষ মানুষের জন্য, আমরা সেটা প্রমাণ করেছি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব উদার বাংলাদেশকেই দেখল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসহায় এই মানুষগুলোর জন্য তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম- যদি প্রয়োজন হয়, একবেলা খাবো এবং আরেক বেলার খাবার তাদেরকে ভাগ করে দেবো। বাংলাদেশ যদি এই উদ্যোগ না নিতো, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এতোটা দৃষ্টি কাড়তো না।

তিনি বলেন, "আমরা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের আইডি কার্ড করে দিচ্ছি। তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি।"

সীমান্তে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এমন একটা ভাব দেখাল, যেন যুদ্ধই বেঁধে যাবে। উস্কানি দেওয়া এবং এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলো, যেন বিশ্ব অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে। তখন আমি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলার কথা বলি। আমার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন কোনো কিছুতে না জড়াই, সে কথাও বলি। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা যারা আসছেন, তাদের সহযোগিতায় যা যা দরকার তাই করতে থাকি।

শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা ছিল আমার লক্ষ্য। সেটা আমরা পেরেছি। যারা বাংলাদেশকে দারিদ্র্য ও দুর্যোগের দেশ বলে জানতো, তারা আজ ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখছে।

তিন সপ্তাহ সফর শেষে শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা।  

সংবর্ধনার মধ্যে গণভবনের পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সরাসরি গণভবনের উদ্দেশে রওনা হয়। এসময় রাস্তার দু’পাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুল ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২ তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও তাদের ফেরত নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন, যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। এ জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭