রোহিঙ্গা সংকট: জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার আহ্বান, ভারত-ইইউ'র বিবৃতি
মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায়, রাখাইন থেকে আরও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবিক–বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক বাংলাদেশ সফর শেষে জেনেভা ফিরে গতকাল শুক্রবার এই আশঙ্কার কথা জানান। গতকাল জেনেভায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র জোয়েল মিলম্যান আলাদা এক ব্রিফিংয়ে জানান, রাখাইন থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।
আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান ভারত ও ইইউ’র
এদিকে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাখাইনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল দিল্লিতে ভারত–ইইউ শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই আলোচনায় ইইউ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আবারও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডায়রিয়া ও কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
অন্যদিকে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডায়রিয়া ও কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। গতকাল শুক্রবার জেনেভার জাতিসংঘ দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফ এই আশঙ্কা প্রকাশ করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধান মায়া ভ্যান্ডিনেন্ট বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা হলো মানুষজন শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ দুর্বল এবং শিশুরা রোগবালাইয়ের ঝুঁকিতে। সেখানে পানিবাহিত তীব্র ডায়রিয়া ও কলেরার বাস্তব ঝুঁকি আছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। সে কারণে স্বাস্থ্য খাতে আমরা সহায়তা বাড়াচ্ছি।’

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ মাসেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর (আজ) মুখে খাওয়ার ৯ লাখ ডোজ কলেরার টিকা বাংলাদেশে পৌঁছাবে। ১০ অক্টোবর থেকে শিশুদের টিকা খাওয়ানো হবে।
ইউনিসেফ বলছে, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে ৫ লাখ ১৫ হাজার নতুন রোহিঙ্গা এসেছে। নতুনদের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশু। এদের ৩০ শতাংশের বয়স ৫ বছরের কম। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে ৫ হাজার ১১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য আছে।
'স্বাধীন আরাকান প্রতিষ্ঠা করতে হবে'
এ প্রসঙ্গে, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ রেডিও তেহরানকে বলেন, রোহিঙ্গাদের রক্ষার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য জন্য স্বাধীন আরাকান প্রতিষ্ঠা করে দিতে হবে; যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ব তিমুরের বেলায়। তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আহ্বান জানান।
আসিয়ান নেতাদের দায়ী করল অ্যামনেস্টি
ওদিকে, মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্থার (আসিয়ান) নেতাদের দায়ী করেছে। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি গত শুক্রবার আসিয়ানের সভাপতির কাছে লেখা এক চিঠিতে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জোটের নেতাদের জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বলেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭