মিয়ানমারে গণহত্যা-সন্ত্রাস তদন্তে বাংলাদেশে নাগরিক কমিশন গঠন
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে গণহত্যা ও নির্যাতন চলছে তা তদন্ত করতে বাংলাদেশে একটি নাগরিক কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুল হুদাকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিককে।
তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করবে কমিশন। গণহত্যা কিংবা জাতিগত হত্যাকাণ্ড কি না, সেখানে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন কতটা সক্রিয় এ বিষয় দু’টি তদন্ত করা হবে এবং পরিশেষে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়া হবে।
আজ (বুধবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিকদের পক্ষ থেকে এই কমিশন গঠনের কথা জানানো হয়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এই কমিশন ঘোষণা করেন।

নাগরিক কমিশন সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে সুপ্রিম কার্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম ফখরুল ইসলাম রেডিও তেহরানকে বলেন, এ কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সরকার যদি মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে তবে তা বাংলাদেশের জন্যও মঙ্গলজনক হবে।
নাগরিক কমিশন গঠনকে স্বাগত জানিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক জমিরউদ্দিন বলেন, এ কমিটিতে বাংলাদেশের আশ্রয় নেয়া বিশিষ্ট রোহিঙ্গা নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হলে এটি আরো গুরুত্ববহ হতো।

সদ্য ঘোষিত নাগরিক কমিশনে শতাধিক বিশিষ্ট নাগরিককে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের সদস্য, বিচারপতি, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক ও কয়েকজন আলেম।
এই কমিশন শিগগিরই কক্সবাজারে একটি গণশুনানির আয়োজন করবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১