টেকনাফে আবারও রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবি: ১২ শিশু-নারীর মরদেহ উদ্ধার
-
সাগর সৈকতে রাখা হয়েছে হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের মরদেহ
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসার পথে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার সাগরে রোহিঙ্গা বহনকারী আরও একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় শিশু ও চার নারীসহ ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা লে. কর্নেল জাফর ইমাম জানিয়েছেন, রাখাইনের ধাউনখালি থেকে ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার পর আজ (সোমবার) ভোর চারটার দিকে নৌকাটি সাগরে ডুবে যায়। এ পর্যন্ত ১২টি মরদেহ এবং অন্তত ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, আরও ২৫-৩০ জন নিখোঁজ রয়েছে।
টেকনাফ থানার ওসি মাঈনুদ্দিন খান জানিয়েছেন, নৌকাটিতে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছিল। শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে এই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কথা ছিল। নৌকাটি ডুবে যাবার পর প্রথমে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এরপর বিজিবি ও কোস্টগার্ডও উদ্ধারে নামে।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা শুরুর হলে জীবন বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে আসতে থাকে। মিয়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার, নৌকায় করে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে। গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত নাফ নদী ও সাগরে রোহিঙ্গাবাহী ২৬টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। নৌকাডুবিতে এ পর্যন্ত ১৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬