স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিশুরা; দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে শিশুই রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার। এসব শিশু পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সেবার সংকটে রয়েছে।
ইউনিসেফের বরাত দিয়ে আজ (শুক্রবার) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে ১২ হাজার শিশু শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। ক্ষুধা ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা বেশিরভাগ শিশুই এখনও মানসিকভাবে বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
ইউনিসেফের কর্মকর্তা সাইমন ইনগ্রাম বলেন, "এই সংকট স্বল্পমেয়াদী নয় এবং খুব তাড়াতাড়ি এর সমাধান হবে না। তাই এটা খুবই কঠিন যে সীমান্ত খুলে দিয়ে যাদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে তাদেরকে বাংলাদেশি শিশুদের মতো সকল সুবিধা নিশ্চিত করা।"
দুই সপ্তাহ রোহিঙ্গা শিবিরে থাকার অভিজ্ঞতায় ইনগ্রাম বলেন, এখানে খাবারের সরবরাহ খুবই কম। প্রতি পাঁচজনের একজন শিশুর বয়স পাঁচের নিচে। তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। ক্যাম্পগুলোতে ডায়রিয়া, কলেরাসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি খুবই বেশি। ইউনিসেফ তাদের বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা করেছে এবং কলেরার টিকা দিচ্ছে। জাতিসংঘের আহ্বান করা ৪৩৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তার মধ্যে ৭৬ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে ইউনিসেফ। তার মাত্র ৭ শতাংশ পাওয়া গেছে বলেও জানান ইনগ্রাম।
ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে প্রায় একমত ডাক্তার মো. শরীফ উদ্দিন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। বৈরী পরিবেশে থাকার পরও তাদের রোগবালাই কম। ক্যাম্পে থাকা শিশুদের ডায়রিয়া, ঠাণ্ডা-কাশি, নিউমোনিয়াসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি। এখানে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাছাড়া রোহিঙ্গা শিশুরা কখনো কোনো রোগের টিকা পায়নি। ফলে তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে।

তিনি আরও জানান, সরকার এরই মাঝে কলেরা টিকা দেয়া শুরু করেছে। এখন হামের টিকা দেয়া প্রয়োজন। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শিশুরা ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ক্যাম্পগুলোতে ফিল্ড হাসপাতালের সংখ্যা ও পরিসর বাড়ানো প্রয়োজন বলেই মনে করেন এ চিকিৎসক।
২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা।#
রেডিও তেহরান/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২০