'রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে সু চির আশ্বাস চাপ মোকাবেলার কৌশল'
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, রাখাইন থেকে যারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার কাজ শুরু করেছে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেও তার সরকার কাজ করছে।
মিয়ানমার সফররত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আজ (বুধবার) সকালে রাজধানী নেপিডোতে সু চির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা হয়। এ সময় সু চি এমন মন্তব্য করেছেন বলে আজ ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সু চিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। সু চি দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।
ঠিক দুই মাস আগে রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে সমন্বিত হামলার পর ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ওই অঞ্চলে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হবে বাংলাদেশ সীমান্তে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীরা।
মিয়ানমারের নেত্রী সু চি রাখাইন রাজ্য সেনাবাহিনীর চলতি অভিযানকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করলেও জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে।
এদিকে, আট সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের আসা এখনও বন্ধ হয়নি। ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে গত কয়েক দশক ধরে।
রাখাইনে কয়েকশ' বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাসের ইতিহাস থাকলেও ১৯৮২ সালে আইন করে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাই রোহিঙ্গাদের বর্ণনা করে আসছেন ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ ও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে। সু চি নিজেও কখনও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি বলেন না।

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকতা কেড়ে নিয়ে তাদের অত্যাচার নির্যাতন করে দেশ ছাড়া করে অবার তাদের ফেরত নেবে এরকম কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সূ চি বরং বিশ্বের চাপ মোকাবেলা করার একটা কৌশল হিসেবে এমন কথা বলছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা ও সহিংসতার জেরে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলও বাংলাদেশের সঙ্গে একমত।
তবে, অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা জন্মভূমি ত্যাগ করে আসলেও বাংলাদেশে তারা স্বস্তিতে রয়েছেন উল্লেখ করে তারা রাখাইনে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। তারা চাচ্ছেন মিয়ানমারে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হোক।
এদিকে, মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে নানামুখী সঙ্কটে পড়ছেন কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দারা। ফলে অনুপ্রবেশ শুরুর দুই মাসের মাথায় এসে এসব এলাকার বাঙালিদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে অসন্তোষের, যা গণক্ষোভে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় প্রশাসন রোহিঙ্গা-বাঙালি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি এবং এর কারণ উল্লেখ করে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫