ফ্লাইওভার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী: দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না
-
মগবাজার-মৌচাক-তেজগাঁও-কাওরানবাজার-বাংলামোটর ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা
রাজধানী ঢাকার মগবাজার-মৌচাক-তেজগাঁও-কাওরানবাজার-বাংলামোটর জুড়ে বিস্তৃত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ফ্লাইওভার বা উড়ালসড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই উড়ালসড়ক যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। সময় বাঁচাবে। কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী উড়ালসড়ক নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। উড়ালসড়কসহ সব সড়ক ব্যবহারে যত্নবান হতে ও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার জন্য তিনি নাগরিকদরে প্রতিও আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এটাই জাতির পিতার স্বপ্ন। আমরা সব মানুষের কথা ভাবি। শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশের সবার বসবাসের সুব্যবস্থা করতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এগুলোতে থাকবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। বস্তির তুলনায় এখানে ভাড়াও কম হবে। চাইলে ভাড়া মাসিক, সাপ্তাহিক কিংবা প্রতিদিন চাইলেও দিতে পারবে। ফ্ল্যাটগুলোতে প্রিপেইড বিদ্যুৎ কার্ড, শিশুদের খেলাধুলা, চিকিৎসা সেবাসহ সব ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানা যায়।
জানা গেছে- ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ১৫ স্থানে উঠানামার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, কাওরানবাজার, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়। এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৯ কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। গত বছরের ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে যান চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ রাজধানীর মৌচাক মোড়ে প্যান্ডেল তৈরি করে ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে এ ফ্লাইওভারের উদ্বোধন দেখানো হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপারেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণিসহ আওয়ামী লীগের নেতা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
এসময় মঞ্চে বসা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৪০ মিনিটের মতো পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। একপর্যায় স্থানীয় সরকার বিভাগে অতিরিক্ত সচিব মো. রইসউদ্দিন মঞ্চে শুধু এলজিইডির কর্মকর্তা বাদে সবাইকে মঞ্চ ছাড়ার নির্দেশ দেন।
এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মঞ্চে উঠে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য দেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
বেলা ১২টা ৩ মিনিটে পর্দায় প্রধানমন্ত্রীকে দেখার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬