রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন খাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে: মন্ত্রীর দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i48163-রোহিঙ্গাদের_কারণে_পর্যটন_খাতে_সমস্যা_দেখা_দিয়েছে_মন্ত্রীর_দাবি
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য পাহাড় ও বন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পর্যটন খাতে কিছু সমস্য দেখা দিয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৪, ২০১৭ ১৭:১২ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য পাহাড় ও বন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পর্যটন খাতে কিছু সমস্য দেখা দিয়েছে।

আজ (শনিবার) সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তাদের আশ্রয় দেবার কারণে স্থানীয়ভাবে কিছু অভিঘাত আসছে। এরইমধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার জনসংখ্যার চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যটনমন্ত্রী আরো বলেন, সেন্ট মার্টিনে পয়লা অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক শামসুল হক শারেক রেডিও তেহরানকে বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন শিল্প ছাড়াও পরিবেশ এবং সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বাজারে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে গেছে, স্থানীয় লোকদের পরিচয়পত্র নিয়ে বাইরে বের হতে হয়। এরকম বাড়তি ঝামেলায় পড়েছেন স্থানীয়রা।

রোহিঙ্গা শরণার্থী

এদিকে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও অন্যান্য নৃশংসতায় জড়িত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ৫৮টি এনজিও। ওই চিঠিতে ২০০৮ সালের জেড অ্যাক্ট এবং ২০১৬ সালের গ্লোবাল ম্যাগনিতস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের জন্য মার্কিন সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাছাড়া, জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি

গতকাল শুক্রবার এক বার্তায় রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্টি হওয়া সংকট সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তৃতাকালে গ্র্যান্ডি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্থানচ্যুত ক্রমবর্ধমান এই জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪