রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরাতে ভূমিকা রাখুন: কুটনীতিকদের প্রতি শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i48919-রোহিঙ্গাদের_দ্রুত_ফেরাতে_ভূমিকা_রাখুন_কুটনীতিকদের_প্রতি_শেখ_হাসিনা
কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ২৬, ২০১৭ ০৯:১২ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আজ (রোববার) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘মানুষ ও শান্তির জন্য কূটনীতি’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনি এ পরামর্শ দেন। বিশ্বের ৫৮টি দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে সম্প্রতি মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের করা সমঝোতা চুক্তি একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য। আমরা যাতে দ্রুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরাতে পারি সেজন্য ভূমিকা রাখবেন।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা নিরসনে তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন নেই; দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

তিনি বলেন, “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরীতা নয়- আমরা এই নীতিতে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও। বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপালের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিবিআইএন চুক্তি করেছি। ভারত-চায়না-মিয়ানমারের মধ্যেও যোগাযোগ স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।”

বাংলাদেশে আসছে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা

কূটনৈতিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আপনারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। কিভাবে দেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো যায় তাও দেখতে হবে।” 

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশে ৫টি মিশন বন্ধ করে দেয়। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর সেগুলো পুনরায় খোলাসহ মোট ২৭টি মিশন চালু করেছি। নতুন করে ভারতে আরও একটি মিশন খোলা হবে। এটা চেন্নাই ও শিলিগুড়িতে হতে পারে। যেখানে চালু করলে বাংলাদেশ বাণিজ্যসহ সার্বিক দিক দিয়ে লাভবান হয় সেখানেই খোলা হবে।” 

প্রবাসী বাঙালিদের সমস্যা সমাধানে তৎপর হওয়ার জন্য কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিদেশে প্রচুর বাংলাদেশি রয়েছেন। যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করুন।  প্রবাসীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাদের সঙ্গে যেন মানবিক দৃষ্টি দিয়ে কাজ করবেন। তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করবেন।” 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি নয়, কূটনীতি এখন অর্থনীতির নির্ভর। গোটা বিশ্বেই কূটনৈতিক অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ জন্য কূটনৈতিকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কূটনীতি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে।

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বৈদেশিক নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ এবং বিশ্বের একটি দায়িত্বশীল ও শান্তি প্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা নিয়ে আলোচনা করাই এ সম্মেলনের লক্ষ্য বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬