রাখাইনে গণহত্যা: দোষীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i49111-রাখাইনে_গণহত্যা_দোষীদের_আন্তর্জাতিক_আদালতে_বিচার_দাবি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নিপীড়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত দুইদিনব্যাপী সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ২৯, ২০১৭ ২১:৩৩ Asia/Dhaka
  • রামরু’র নির্বাহী পরিচালক ও ঢাবি অধ্যাপক সিআর আবরার
    রামরু’র নির্বাহী পরিচালক ও ঢাবি অধ্যাপক সিআর আবরার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নিপীড়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত দুইদিনব্যাপী সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

সম্মেলনের প্রথমদিন বক্তব্য রাখেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, গণহত্যা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, গবেষকরা। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জোরপূর্বক মিয়ানমারের রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব, জাতীয়তা এবং নিজস্ব পরিচয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মর্যাদার সঙ্গে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মিয়ানমার সুস্পষ্ট গণহত্যা চালিয়েছে

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সিআর আবরার বলেন, প্রতিবেশী মিয়ানমার সুস্পষ্ট গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের এই নিষ্ঠুর রাষ্ট্রীয় অপরাধের ভিডিওচিত্র মোবাইলে ধারণ করা হয়েছে এবং তা ছড়িয়ে পড়েছে। 

‘রোহিঙ্গাদের উপযুক্ত মর্যাদা ও ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত

বিশ্ব ধর্ম সংসদের ইমেরিটাস চেয়ার মালিক মুজাহিদ বলেন, যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দ্বারা বিভিন্নভাবে নিপীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান ও ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত। গণহত্যার হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ দেন।

মালিক মুজাহিদ বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। বলেন, তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে কিন্তু কৃতদাস হিসেবে নয়, সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে। 

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চাইলেন বৌদ্ধ নেতা

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংস্থার সভাপতি সাংহানায়ক সুধান্দা মহাথেরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরে বিভিন্ন পন্থায় মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। মহাথেরো বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন দাবি করেছেন। 

দায়ীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা দায়ী না হওয়া সত্ত্বেও গণহত্যার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বুঝতে হবে এটি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। চীন রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গণহত্যার জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, জাতীয়তা কেড়ে নেয়া হয়েছে

সম্মেলনে রোহিঙ্গা ভয়েস এবং সংহতি পর্বে বর্মী রাখাইন অধ্যাপক স্বপন আদনান বলেন, বিশ্বের রাষ্ট্রহীন সবচেয়ে জাতিগোষ্ঠীর নাম রোহিঙ্গা যাদের নাগরিকত্ব, জাতীয়তা এবং নিজস্ব পরিচয় কেড়ে নেয়া হয়েছে। গত তিনমাস ধরে বাংলদেশের চট্টগ্রাম সীমান্ত থেকে বিশ্ব দেখেছে মিয়ানমার কিভাবে রাখাইনের দুর্দশাগ্রস্ত এবং নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী

‘রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার জন্য গণহত্যা চলছে

বার্মা বশোদ্ভূত অবসারপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং লেখক ইউ কিউ উইন বলেন, রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য রাখাইনে গণহত্যা চলছে। বার্মার নাগরিকত্বের তিনটি শ্রেণি তৈরি করে রোহিঙ্গাদের অধিকার হরণ করা হয়েছিল।

৪০ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ইউ কিউ উইন বলেন,  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং বার্মার মানবাধিকার কর্মীদের ভয় না পেয়ে তাদের ভয়েস রেইজ করার আহ্বান জানান। 
তিনি বলেন, বার্মার মানবাধিকার কর্মী, বর্ণবাদ এবং গণহত্যা বিশেষজ্ঞ মাং জারনি বলেছেন, যেসব রোহিঙ্গারা গণহত্যার হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিগোষ্ঠী এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নির্মুল শুরু হয়েছে।

রোহিঙ্গারা কখনোই নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ নয়

সম্মেলনে রামরু চেয়ার অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কখনোই নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ নয়। যদি কেউ বলে তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি তাহলে বুঝতে হবে তারা বর্মী সেনাবাহিনীর স্বার্থে তা বলছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিকভাবে দেশ ব্যর্থ হয়েছে

মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধি পেয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক এই ইস্যুতে কূটনৈতিকভাবে দেশ ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার তাদের নোয়াখালীর চরে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ববাসীকে ভুল সংকেত দিচ্ছে। আমাদের অবশ্যই উচিত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। 
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন জাতীয় জাদুঘর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত একটি সংহতি র‌্যালি বের হবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০