রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন চুক্তি করার আহ্বান এইচআরডব্লিউ'র, বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক প্রত্যাহার করে নতুন চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া’ বিষয়ে এটি সমঝোতা স্মারক সই করে।
সমঝোতা অনুসারে, ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা রয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে নেয়া অসম্ভব; তাই সম্পাদিত ওই চুক্তিটি প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত বলে বলে মনে করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের ইউনিয়ন মিনিস্টার কাইওয়া তিন্ত শয়ে’র কাছে লেখা এক চিঠিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিটি লিখেছেন রিফিউজি রাইটস প্রোগ্রামের পরিচালক বিল ফ্রেলিক ও এশিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ব্র্যাড এডামস।
চিঠিতে চুক্তি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এতে আন্তর্জাতিক আইনগুলোর মৌলিক নীতি অনুসরণ করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার ওই বিশাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তার দরকার হবে। ওইসব দাতাদের উচিত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারকে নিমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা। যাতে করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নতুন একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সমপাদন করা যায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম রেডিও তেহরানকে বলেন, আসলে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি হয় নি। মিয়ানমারও এটাকে একটি ব্যবস্থা বা বন্দোবস্ত হিসেবে প্রচার করছে বিশ্ববাসীকে প্রতারণা করার জন্য। এ বন্দোবস্তের দ্বারা বাংলাদেশ বা মিয়ানমার বা রোহিঙ্গাদের কোনো লাভ হয়নি। লাভবান হয়েছে প্রতিবেশীরা।
এই বছরের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ লাখ ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এদের মধ্য ২০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের অনেকেই বলেছে, তারা ভবিষ্যতে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করে না যে, খুব শিগগিরই সেখানে ফিরে যাওয়াটা তাদের জন্য নিরাপদ হবে। অন্তত, যতদিন না তাদের নিরাপত্তা, জমি ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে ততদিন তাদের জন্য সেখানে ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়।
সংস্থাটির দাবি, বর্তমান চুক্তি অনুসারে, মিয়ানমারকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যে, ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো অস্থায়ী জায়গায় বাস করবে না।
পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, রোহিঙ্গাদের সেখানে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করাতো দূরের কথা। মিয়ানমার এখনো তাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের সমাপ্তি ঘটাতে পারেনি। রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া ও সেখানে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়ার কোনো যথাযথ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে না।
হিউম্যান রাইটস বলেছে, চুক্তির গুরুতর অসঙ্গতির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উচিত ইউএনএইচসিআর’কে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি তৈরি করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো।
এদিকে, আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফিংয়ে এমন আহ্বান জানায় পরিষদ। এতে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা। মিয়ানমার পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এদিন ব্রিফিং করেন রাজনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রে ফেল্টম্যান।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি জাতিসংঘ তার অভিজ্ঞতা দিয়ে মিয়ানমারকে সহায়তা করতে পারে এবং মিয়ানমার সেই সুযোগ ব্যবহার করবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩