যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন: 'রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সহজে হবে না'
নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দুই দেশের একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এ ওয়ার্কিং গ্রুপ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে সোমবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা পৌঁছায়। আজ (মঙ্গলবার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের যৌথ বৈঠকে নয় সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে আর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক।
প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর উপস্থিতে দুই দেশের সচিবদ্বয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের দলিলে (টার্মস অব রেফারেন্স) সই করেন।
এর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ১৫ জন করে কর্মকর্তাকে নিয়ে মোট ৩০ সদস্যের এই গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।
তবে এই গ্রুপ কবে থেকে কাজ শুরু করবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।
সেনাবাহিনীর ওই অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে গত ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে চান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু এবং তাদের পুনর্বাসন এবং নিজেদের এলাকায় নতুন করে জীবন যাপন শুরুর ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপকে।

টার্মস অব রেফারেন্সে বলা হয়েছে, সম্মতিপত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে, কীভাবে তাদের পরিচয় যাচাই করা হবে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কী হবে, যানবাহন, যোগাযোগ এবং সেখানে তাদের স্বাগত জানানোসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে একটি কর্মকাঠামো চূড়ান্ত করবে এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের এই কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউএনএইচসিআর সহ জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং আগ্রহী উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা নেবে।
এ প্রসঙ্গে বাম মোর্চার শরিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস রেডিও তেহরানকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ থেকে বিতাড়ন এবং তাদের ওপর জুলুম নির্যাতন একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ফল। খুব সহজেই এ সংকট সমাধান হবে এমনটি তিনি আশা করেন না।
ওদিকে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সময়ও রাখাইনে বেশকিছু গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার বিষয় উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস মন্তব্য করেছেন, চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা জনগণের সঙ্গে একরকম প্রতারণা।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা মোটেই গুরুত্বসহ গ্রহণ করা যায় না।
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯