হাসিনা-উইদোদো বৈঠক: বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ৫ চুক্তি-সমঝোতা
-
বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আজ (রোববার) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব চুক্তি-সমঝোতা সই হয়।
দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এলএনজি কেনা-বেচার বিষয়ে একটি আগ্রহপত্রে সই করেন পেট্রোবাংলার সচিব সৈয়দ আশফাকুজ্জামান ও ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি বিভাগ পেরতামিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট উইকো মিড়নাতারো।
সমন্বিত গ্যাস অবকাঠামোর উন্নয়নেও রোববার ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ এবং ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি বিভাগ পেরতামিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট গিনানজার সোফিয়ান এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে ‘অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি’ করার জন্য আলোচনার শুরুর ঘোষণায় সই করেন বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও এঙ্গারতিয়াসতো লুকিতা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
সাগরে বেআইনিভাবে মাৎস্য আহরণ বন্ধে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি যৌথ ঘোষণায় সই করেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি ও বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।
এর আগে, সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সকাল ১০টায় দুই নেতার একান্ত বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে তাদের নেতৃত্বে শুরু হয় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়।
দুই দিনের সফরে গতকাল (শনিবার) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও তার স্ত্রী ইরিয়ানা জোকো উইদোদো। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো। এসময় রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন মো. আবদুল হামিদ। পরে বঙ্গভবনে নৈশভোজে অংশ নেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেশ কযেকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ রোববার সকাল জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। পরে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
আজই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। তাদের মুখ থেকে শুনবেন তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।
দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার সকাল ৯টায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮