রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি হামিদ
-
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে সুইজারল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। সোমবার রাতে বঙ্গভবনে নৈশভোজের প্রাক্কালে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা করেন।
বঙ্গভবনের একজন মুখপাত্র প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের বরাদ দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানিয়েছেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশ ভূমি রাখাইনে নিরাপদ ও মর্যাদাসহকারে প্রত্যাবাসনে প্রেসিডেন্ট সুইজারল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন।’
নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, মন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
প্রেসিডেন্ট বেরসে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ সংকট অবসানে সর্বাত্মক সমর্থনের আশ্বাস প্রদান করেন। পরে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও তার সফরসঙ্গীরা প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন। তারা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।
সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করেন এবং এই সমস্যা সমাধানে তার দেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের কথা বলেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টিতে নজর দিতে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকার প্রধান।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এই সমস্যার মূল মিয়ানমারে। তাই মিয়ানমারকেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন অবিলম্বে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন শেখ হাসিনা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬