খালেদা জিয়ার রায়ের অনুলিপি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা: মিশ্র প্রতিক্রিয়া
একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাবন্দি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘসূত্রতাকে সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং আইনের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, “আইনে রয়েছে পাঁচ দিনের মধ্যে সত্যায়িত অনুলিপি দেয়ার কথা। কিন্তু আট দিন হলেও সেটা এখনো দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তিকে বিলম্বিত করার জন্য সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ বেআইনি কাজ করছে।"
ওদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেশি দিন কারাগারে রাখতেই রায়ের কপি নিয়ে সরকার 'ছলচাতুরি' করছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, '৬৩২ পাতার রায় সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হয়। ধরে নিয়েছিলাম যে, রায় আগেই প্রস্তত ছিল। রায়ের কপির জন্য উনাকে (বিচারক) বললাম, একটা সত্যায়িত কপি হলেই চলবে। কিন্তু দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৮ই ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। মামলার রায় ঘোষণার দিনই রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য মৌখিক আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরে ১১ই ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে রায়ের কপির জন্য লিখিত অবেদন করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে মামলায় প্রথম থেকেই সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম ফখরুল ইসলাম রেডিও তেহরানকে বলেন, যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা তাই রায়ে সার্টিফাইড কপি দিতে বলিম্ব করাও একটি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ। দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এ বিলম্ব অবশ্যই একটি অন্যায্য আচরণ।
তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আদালত থেকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি দেয়া হচ্ছে না বলে বিএনপি’র আইনজীবীরা যে অভিযোগ করছেন, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রায়ের কপি টাইপ হওয়া শেষ হলে সার্টিফায়েড কপি দিতে ১ মিনিটও দেরি করা হবে না।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলায় তাকে আদালত উপস্থিত করার নির্দেশ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) আছে কিনা তা জানতে আজ জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
আগামীকাল রোববার বিশেষ জজ আদালত-২-এ এই মামলার শুনানি হওয়ার তারিখ ধার্য রয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭