নিরাপত্তা নিয়ে এখনো চিন্তিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i53207-নিরাপত্তা_নিয়ে_এখনো_চিন্তিত_রোহিঙ্গা_মুসলমানরা
ঢাকা সফররত মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জে. কিউ সি'র হাতে ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে কবে থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া শুরু হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮ ১৪:৫৬ Asia/Dhaka

ঢাকা সফররত মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জে. কিউ সি'র হাতে ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে কবে থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া শুরু হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "সেদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তিনটি পর্যায়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। তবে তাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেরত পাঠানো হবে।" শরণার্থী প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আগামী মঙ্গলবার ফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে কথা রয়েছে। গত ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে এ দু'দেশের মধ্যে চুক্তি সই হয়।     

তবে বাংলাদেশ সরকার এক হাজার ৬৭৩টি পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা মিয়ানমারের হাতে তুলে দিলেও এবং তিনটি পর্যায়ে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা থাকলেও মিয়ানমার সরকার শেষ পর্যন্ত ওই সমঝোতা বাস্তবায়ন করবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নেয়ায় বাংলাদেশ সরকার ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েছে। এ কারণে সরকার শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনটি পর্যায়ে তাদের ফেরত পাঠানোর কথা বললেও এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার, সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের আন্তরিকতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন করে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সীমাহীন জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে চুক্তি অনুযায়ী শরণার্থীদের ফেরত আনার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও এ অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি খুবই জরুরি যাতে প্রত্যাবাসনের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা রাখাইনে ফিরে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা নির্যাতন যে আবারো শুরু হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপপ্রধান বিল ফেরলিক বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর আগে বহু কাজ বাকী রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সমাজের তত্বাবধান ছাড়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না।

রোহিঙ্গারাও চায় তাদের জন্য নিরাপত্তা ও বাসস্থান এবং খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ এর অন্যথায় সেখানে গিয়ে জীবন যাপন করা সম্ভব নয় এবং সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হাতে আবারো নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮