খালেদা জিয়ার সাজা পরবর্তী রাজনীতি কোন পথে: ২ বাম নেতার অভিমত
'বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা এবং পরবর্তী ঘটনাবলী সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কিছু জটিলতা সৃষ্টি করবে না। আগে থেকেই দ্বিদলীয় রাজনীতির পাঁকে ফেলে ও নানা কূটকৌশলে পরিস্থিতিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তোলা হচ্ছিল। এ রায়ে তার মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলা চলে।'
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভুইঁয়া এমন মন্তব্য করেছেন।
ঢাকার একটি দৈনিকে দেয়া এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন সামনে একাদশ সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন এখন গণতন্ত্রে উত্তরণ কিংবা সুশাসন লাভের সোপানে পরিণত হয় না; বরং তা গণতন্ত্র নির্বাসনের আয়োজন সম্পন্ন করে; ক্ষমতার মালিক জনগণকে ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়। এটা এখন যেন দুর্বৃত্তায়িত দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির এক খেলা।
তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজার পর এ পরিস্থিতির খুব বেশি অদলবদল হবে বলে মনে হয় না।
তবে গণতান্ত্রিক বাম জোটের নেতা সাইফুল হক মনে করেন, এর ফলে স্বৈরাচারি শক্তি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং সার্বিকভাবে সেটা দেশের জনগণের জন্য জুলুম নির্যাতনের কারণ হয়ে দেখা দেবে।
বিএনপি নেতাসহ অনেকের মতে, কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে খালেকুজ্জামান বলেন, যদি শাসকগোষ্ঠী ও ক্ষমতাবানদের ন্যায্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত না হয়, তাহলে যে কোনো আক্রান্ত মানুষের প্রতিই সহানুভূতি তৈরি হয়। জনপ্রিয়তা ইতিবাচক কর্মসিদ্ধি কিংবা নেতিবাচক প্রাপ্তি উভয় দিক থেকেই জমাট বাঁধতে পারে।
খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের পর বিএনপির সংযত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলন কতটা অহিংস কিংবা সহিংস, তার চেয়েও বড় কথা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ও স্বার্থে গণমানুষের লাগাতার অংশগ্রহণ কতটা ঘটানো যাবে।
বর্ষীয়ান এই বামপন্থি নেতা বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে একটা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা চালানোই বামপন্থিদের এ মুহূর্তের আশু করণীয়। যাতে জনগণ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পায়।
তিনি উল্লেখ করেন, এই দ্বিদলীয় সংঘাতময় পাল্টাপাল্টির রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও গণআকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করেই এগিয়েছে। যারা স্বাধীনতা-উত্তর ৪৬ বছরের শাসন-শোষণে দেশের বর্তমান অবস্থা তৈরি করেছে, তাদের হাতে জনগণের সংকটের সমাধান নেই। তাই বামপন্থিদের উদ্যোগে সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে একটা বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার পথে দেশকে পরিচালিত করা যায়।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১