হাইকোর্টে পৌঁছে নি খালেদা জিয়ার মামলার নথি, জামিন আবেদনের আদেশ কাল
-
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে হাইকোর্ট আগামীকাল (সোমবার) আদেশ দেবেন। আজ (রোববার) সকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন বিষয়ে ‘নট টুডে’র আদেশ দিয়ে সোমবার দিন ধার্য করেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘শুনানি শেষে আজ জামিনের আবেদনের ওপর আদেশের দিন ধার্য রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নথি এসে পৌঁছেনি। অবশ্য চাইলে হাইকোর্ট নিজস্ব ক্ষমতাবলে আদেশ দিতে পারেন।’
এ সময় আদালত বলেন, ‘আমরা নথি আসার জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়ে আদেশ দিয়েছিলাম। এই আদেশ ২৫ তারিখে যদি পৌঁছে, তাহলেও ১৫ দিন শেষ হবে আজ। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত দেখি। এর পরে আগামীকাল এ বিষয়ে আদেশ দেবো।’
জবাবে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আদালতের হাত অনেক লম্বা। কারণ, এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত চাইলে আদেশ দিয়ে দিতে পারেন।’
তখন আদালত বলেন, ‘আমরা আজকের দিনটি দেখি। আগামীকাল আদেশের জন্য রাখছি।’
এসময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। আর তার ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সাথে খালেদা, তারেকসহ সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়।
রায়ের পর আদালত থেকেই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং এই মামলায় খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতের করা জরিমানা স্থগিত করে ১৫ দিনের মধ্যে এই মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে নির্দেশ দেন।
এরপর গত ৮ মার্চ সকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন একই হাইকোর্টে বেঞ্চে গিয়ে জামিন বিষয়টি আদালতের নজরে এনে বলেন, ‘এই মামলার নথি আসার জন্য দেয়া সময় তো শেষ।’
এসময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য ১১ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১