খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ বেআইনি: মির্জা ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i64443-খালেদা_জিয়ার_অনুপস্থিতিতে_বিচারকাজ_বেআইনি_মির্জা_ফখরুল
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ চলবে বলে আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা ‘বেআইনি এবং ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ ০৯:২২ Asia/Dhaka
  • খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ বেআইনি: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ চলবে বলে আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা ‘বেআইনি এবং ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “গতকাল কারাগারে স্থানান্তরিত আদালত রায় দিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে। এটা বেআইনি, এটা তাঁর প্রতি অবিচার, এটা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি হাঁটতেও পারেন না। অথচ তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে আদালতকে কারাগারে স্থানান্তরিত করে বিচারকাজ পরিচালনা করছে। অথচ আইনে বলা আছে, বিচারকাজ চলতে হবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে। আদালত আদেশ দিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে।”

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, “যে আদালত একটি মিথ্যা মামলায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে সেই আদালত কারাগারের মধ্যে তার অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনার কথা বলছে। আমরা এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছি না। একই সপ্তাহে পর পর তিনদিন তারিখ দিয়েছে। এত তাড়া কেন? সরকারের তাড়াটা আমরা বুঝতে পারি। তারা চায় যত দ্রুত খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু আদালতের কাছে তো আমরা এটা প্রত্যাশা করি না, জনগণও প্রত্যাশা করে না। আমরা মনে করি এই আদেশের পরিবর্তন হওয়া উচিত এবং খালেদা জিয়াকে একজন নাগরিক হিসেবে সংবিধান সম্মতভাবে প্রাপ্য সুযোগগুলো দেওয়া উচিত। আশা করব, তার প্রতি এই অমানবিক আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে তার সুচিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের বাইরে যে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি (খালেদা জিয়া) প্রথম কথাই বলেছেন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না কেন? কতটা ‍অসুস্থ হলে তিনি একথা বলতে পারেন। আগে তিনি কখনও একথা বলেননি।”

বিচার বিভাগের যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের প্রতি দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, অবিলম্বে শুনানি বন্ধ করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

বেগম খালেদা জিয়া

সারা দেশে গায়েবি মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে গায়েবি মামলার সংখ্যা তিন হাজার ৭০৬টি, আর এজাহারে নাম এসেছে তিন লাখ ১৩ হাজারের বেশি, আর অজ্ঞাতনামা আসামি দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ জন, আর আটক করা হয়েছে তিন হাজার ৬০০ জনের বেশি। মূলত নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও বিরোধী মতকে বাইরে রাখতে সরকার নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। অথচ নির্বাচনের আগমুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশে এমন গায়েবি মামলা দায়ের করে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশে নির্বাচনের সময় এলে জনগণকে নির্বাচনমুখী করা হয়। অথচ বাংলাদেশে সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা দখল রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। যাতে আবারও ৫ জানুয়ারি মতো নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এ আইন করা হলো যাতে কেউ আর সরকারের অপশাসন, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। এ আইনে কোনো সরকারি কর্মকর্তার গোপন তথ্য বা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। তাহলে বলেন গণতন্ত্র কোথায়?’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১