জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ নতুন এ রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই ফ্রন্টের ঘোষণায় নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবি করা হয়েছে।
সূচনা বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই ঐক্য কোনো দলের স্বার্থে নয়। জাতীয় স্বার্থে এই ঐক্য করা হয়েছে। অতীতের মতোই জনগণের ঐক্যের জয় হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা চলছিল। আজ সফল হলাম। দেশ এখন দুঃশাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পেশাজীবীরা অনেক আগে থেকেই এটা উপলব্ধি করে আসছেন। আজ এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়ার সফল যাত্রা শুরু হলো।’
লড়াই শুরু হলো নতুন আঙ্গিকে : মির্জা ফখরুল
সংবাদ সম্সেলনে উপস্থিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে এই লড়াই শুরু হলো নতুন আঙ্গিকে। আমরা বিশ্বাস করি এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তি মিলবে। আমরা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এবং আমরা শপথ নিয়েছি গণতন্ত্রের অধিকারগুলোকে আদায় করার পরেই আমরা ঘরে ফিরব।’
এদিকে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তাদের মতানৈক্যের কথা জানিয়ে দিয়েছে দিয়েছে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কোনও ঐক্য প্রক্রিয়ায় আমরা যুক্ত হব না। আমরা ভারসাম্যের রাজনীতি চাই। কোনও একক দলের আধিপত্য চাই না। এ দুটি বিষয়ে আমরা বিএনপির সঙ্গে একমত হতে পারিনি।’
শনিবার সন্ধ্যায় ডাক্তার বি. চৌধুরীর বারিধারার বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান লিখিত বক্তব্যে জানান, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কোনও ঐক্য প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত হবে না। তারা ভারসাম্যের রাজনীতি চান। বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে তারা কোন জোটে অন্তর্ভূক্ত হতে চান না।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানালেন অলি আহমেদ
তবে জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়েও একে স্বাগত জানিয়েছেন এলডিপি সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। শনিবার বিকেলে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এলডিপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি ভাগ-বাটোয়ারার রাজনীতি নয় বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে অলি আহমেদ জানান। 'সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, আদৌ নির্বাচন হবে কিনা? সুতরাং আমি অনুরোধ করব বঙ্গবন্ধু কন্যাকে এখনও সময় আছে, দেশের কথা চিন্তা করে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবশ্যই সুরাহা করতে হবে।'
'কামাল-বদরুদ্দোজা যতই ষড়যন্ত্র করুক নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না'
ওদিকে, ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র এবং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মন্তব্য করেছেন, জাতীয় ঐক্য যারা করেছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। জাতীয় ঐক্যের নামে ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী যতই ষড়যন্ত্র করুক নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে ১৪ দলের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম।
মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কবর হয়ে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সংবিধান অনুসারে। এই দুনিয়ার কেউ ঠেকাতে পারবে না, নির্বাচন হবেই। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো এখানেও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "মেসি নেইমার গোল মিস করতে পারে, কিন্তু শেখ হাসিনা গোল মিস করবেন না। যদি বুকের পাটা থাকে নির্বাচনে আসেন। ফাউল করবেন না, ফাউল করলে লাল কার্ড দেখাই দেবো।"#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন