প্রতিটি আসনে গড়ে ১৩টির বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i65785-প্রতিটি_আসনে_গড়ে_১৩টির_বেশি_মনোনয়ন_ফরম_বিক্রি_করেছে_আওয়ামী_লীগ
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫১ জন। এক আসন থেকে সর্বোচ্চ মনোনয়ন ফরম কেনার রেকর্ড এটা। অন্যদিকে সোয়া ৩ লাখের কিছু বেশী ভোটার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৩২ জন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ১৩, ২০১৮ ১৬:৩৪ Asia/Dhaka
  • মনোনয়ন ফরম হাতে ওবায়দুল কাদের
    মনোনয়ন ফরম হাতে ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫১ জন। এক আসন থেকে সর্বোচ্চ মনোনয়ন ফরম কেনার রেকর্ড এটা। অন্যদিকে সোয়া ৩ লাখের কিছু বেশী ভোটার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৩২ জন।

তাছাড়া, বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুর-১ আসনে ২ লাখ ৭০ হাজারের মতো ভোটারের বিপরীতে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে ফরম কিনেছেন ১১ জন।

এ চিত্র শুধু তিনটি আসনের নয়। প্রায় ৩০০ আসনের একই চিত্র। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ হয়েছে। গত চার দিনে বিক্রি হয়েছে মোট ৪ হাজার ২৩টি ফরম। অর্থাৎ প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ১৩টির বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে।

এত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে কাকে রেখে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এ প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ও পার্লামেন্টারী পার্টির সদস্য ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় তারা মনোনয়ন চূড়ান্ত করার জন্য অরো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে পারবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি আসনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বেশি মনোনয়ন ফরম কেনার চারটি কারণ জানা যায়। ওইসব নেতারা জানান, প্রথমত- মূল কয়েক নেতা ছাড়া বেশিরভাগ মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ডামি হিসেবে। তারা মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থন দিতে ফরম কিনেছেন। দ্বিতীয়ত-ভবিষ্যতে মনোনয়ন চাওয়ার পথ তৈরি করতে অনেকে এবার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তৃতীয়ত- আবারও দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে নানা ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাবার আকাংখা থেকে  ফর্ম কিনেছেন। চতুর্থত- মনোনয়ন বোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিতেও অনেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এসব প্রসঙ্গে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, এটা দলের ভেতরকার গণতান্ত্রিক চর্চা বলে মনে করি। তবে দলের নীতি নির্ধারকদের দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে এবার মনোনয়ন পরবর্তী পরিস্থিতি কি হতে পারে সেটি নিয়ে। দলের পক্ষে এত মনোনয়নপত্র কেনা হবে তা প্রত্যাশিত ছিলো না। এতে বোঝা যাচ্ছে দলীয় কোন্দল রয়েছে।

তবে আগে থেকেই হুঁশিয়ার করে দেয়া হচ্ছে, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যার হাতে নৌকার টিকেট তুলে দেবেন তাকে সবাই সমর্থন দেবেন। অন্যথায় দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে আগামীকাল থেকে। ধানমন্ডিতে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকার পর্বে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে দলীয় নেতাদের বাইরেও শরীকদের নিয়ে মনোনয়ন চাপে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগসহ ১১টি দল নৌকা প্রতীকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করতে চায়। নৌকা প্রতীকে যেসব দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করবে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সেই তালিকা রোববার জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদের কাছে ওই তালিকা জমা দেন।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া ওই চিঠিতে যেসব দলের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে সেই দলগুলো হলো, আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি (জেপি) (মঞ্জু), কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, ন্যাপ (মোজাফফর), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও বাসদ (রেজা)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের একাধিক দল এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনে আলাদা চিঠি দিয়ে নৌকা ও তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট করতে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। নিবন্ধনহীন বাংলাদেশ জাসদও নৌকা প্রতীকে ভোট করতে চেয়ে এ ধরনের একটি চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন শুধু অপেক্ষার পালা কারা পাচ্ছেন দলের নৌকা প্রতীক।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩