লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি, সরকার ইসিকে গিলে ফেলেছে: বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i65944-লেভেল_প্লেয়িং_ফিল্ড_তৈরি_হয়নি_সরকার_ইসিকে_গিলে_ফেলেছে_বিএনপি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখনো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি।   
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ১৯, ২০১৮ ১৩:১৭ Asia/Dhaka
  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখনো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি।   

আজ (সোমবার) গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি যে,  নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেয়ার পরও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা গায়েবী মামলায় গ্রেফতার এবং জামিন না দেয়ার প্রবণতা আরো বেড়েছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলের যে সব প্রার্থীর জয় লাভের সম্ভাবনা বেশি তাদেরকে গ্রেফতার করে আটক করা হচ্ছে এবং জামিন দেয়া হচ্ছে না।“

তিনি অভিযোগ করেন, নিম্ন আদালতে তাদের নেতা-কর্মীদের জামিন শুনতে নানা বিলম্ব করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হচ্ছে না। সরকারি দলকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই গ্রেফতার আটক ও হয়রানি চলছে।

ফখরুল আরো বলেন, টেলিফোনে বিভিন্ন সংস্থার নামে হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং কোনো কোনো বিশেষ প্রার্থীকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের সকল পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এই ঘটনাগুলোতে প্রমাণিত হয় না যে, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন পাওয়ার পরও অন্যায়ভাবে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দেয়ার পর জামিন বিলম্ব করা হচ্ছে। সিনিয়র নেতা সাবেক হুইপ, সংসদ সদস্য মুনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী এফ.সি.এ, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দকে অটক করে রাখা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী

সরকার ইসিকে একেবারে গিলে ফেলেছে: রিজভী

'বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আইন, আদালত ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করার পরে তাদের পকেটে থাকা নির্বাচন কমিশনকেও একেবারে গিলে ফেলেছে। এখন নির্লজ্জভাবে ইসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে দলীয় স্বার্থে। আর ইসির কতিপয় কর্মকর্তা সেই সুযোগ করে দিয়েছে।'আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মূখপাত্র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পুলিশের বেপরোয়া আচরণ ও হয়রানিতে আবারও ‘ফেনী মার্কা’ নির্বাচনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা ও গ্রেফতার দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, গতকালও ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ, ফেনী, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে বিনা মামলায়, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ।

এমনকি সারাদেশে দলীয়কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে কারা কারা সরকার দলের সমর্থক, কারা বিরোধীদলের সমর্থক তাদের তালিকা করছে তারা। এমনকি বিরোধীমতের সমর্থক হলে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মোবাইলেও তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

রিজভী আরও বলেন, পুলিশের প্রকাশ্য ও গোপন হুমকিতে এ নিয়ে দেশজুড়ে মনোনীত নির্বাচনী কর্মকর্তা শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে পুলিশ বিভাগ যেভাবে খোঁজখবর নিচ্ছে, তা শুধু এখতিয়ারবহির্ভূত নয়, বেআইনিও। অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশন থেকেই এ তালিকা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কমিশন থেকে পুলিশ বিভাগকে এ রকম কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

হেলালুদ্দীন আহমদ

'থ্যাংক ইউ পিএম' প্রচারণা  নিয়ে ইসির কিছু করার নেই

ওদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে 'থ্যাংক ইউ পিএম' নামে যে প্রচারণা চলছে তা নিয়ে ইসির কিছু করার নেই।

এর আগে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর 'থ্যাংক ইউ পিএম' নামে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রচারণা চালানোটা নির্বাচনী আইনের বরখেলাপ।  

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জানতে পেরেছি 'থ্যাংক ইউ পিএম' নামে একটি বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। এরকম প্রচারণা যে কেউই চালাতে পারবে। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বিটিভিসহ বেসরকারি টিভিতে বিজ্ঞাপন আকারে প্রচারণা হওয়ায় এটি নিয়ে ইসির কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন উপলক্ষে লাগানো আগাম নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী (পোস্টার, ব্যানার) গত রাতের মধ্যেই সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও যারা নির্দেশ মানেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ইসির নির্দেশনা মেনে এখন দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে জরিমানা আদায় করবে। তবে আগাম প্রচারণা চালানোর জন্যে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে না।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯