বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনও সংশয়মুক্ত নয়: সুজন'র অভিমত
বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে আনুষ্ঠিতব্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বেসরকারী সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
আজ রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ইতিমধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে দেশে বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলি প্রশ্নবিদ্ধই হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনও সংশয়মুক্ত নয়; এখানে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা আছে। তারা চাইলেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে পারেন। তবে ক্ষমতা থাকলেই হবে না, ক্ষমতা ব্যবহারের সাহস দেখাতে হবে। এ সময় প্রার্থী বাছাইয়ে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুজন সম্পাদক মনে করেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত হলে দেশের তরুন সমাজ গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হারাবে।আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচীব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের জন্য এখনো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ডও তৈরী হয় নি।
ওদিকে, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আজ সোমবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের এক বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, লন্ডনে অবস্থাকারী বিএনপি নেতা তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। এতে ইসির করার কিছু নেই। ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানারে বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা যাবে, এটা রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ব্যাপার।’
দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ায় গতকাল রোববার কমিশনে লিখিত অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল-উল আলম হানিফ বলেছেন, একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যেভাবে অংশ নিচ্ছে যেটা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারনে বাংলাদেশে জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশংয় রয়েছেন।
এর আগে বিএনপি’র পক্ষ থেকে উত্থাপিত এক অভিযোগ প্রসংগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে “থ্যাংক ইউ পিএম” নামে যে প্রচারণা চলছে তা নিয়েও ইসির কিছু করার নেই। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব সোমবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আরো জানান, নির্বাচন উপলক্ষে লাগানো আগাম নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী (পোস্টার,ব্যানার) গত রাতের মধ্যেই সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও যারা নির্দেশ মানেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ইসির নির্দেশনা মেনে এখন দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে জরিমানা আদায় করবে। তবে আগাম প্রচারণা চালানোর জন্যে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে না।
উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৮
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন