ইসি সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের শাস্তি চেয়ে বিএনপির চিঠি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i65969-ইসি_সচিব_ও_ডিএমপি_কমিশনারের_শাস্তি_চেয়ে_বিএনপির_চিঠি
বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপকমিশনারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া, সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারদের প্রত্যাহার করে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদায়ন চেয়ে দলটি। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ২০, ২০১৮ ১৩:২৮ Asia/Dhaka
  • ইসি সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের শাস্তি চেয়ে বিএনপির চিঠি

বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপকমিশনারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া, সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারদের প্রত্যাহার করে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদায়ন চেয়ে দলটি। 

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে এই দাবি-সংবলিত চিঠি জমা দেয়। চিঠিতে সই করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

একটি চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে ব্রিফ করার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য একটি চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ দেয়ার পর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সচিব, ডিএমপি কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোনের উপ কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যতায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নিমিত্তে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথাও বলা হয় চিঠিতে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কাছে লেখা চিঠিতে বলা হয়, 'নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর এর পরের দিন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাস্তা বন্ধ করে যানজট সৃষ্টি করে মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মোটরসাইকেল, গাড়ি, পিকপাকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধানমন্ডি যায় এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে মনোনয়ন সংগ্রহ করে। এছাড়া নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তৎপরতা না নিয়ে বিএনপি মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে স্বতঃস্ফূর্ত জনগণের ঢল দেখে নির্বাচন কমিশন সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের গায়ে জ্বালা ধরে। কমিশন নড়ে নড়ে বসে।’

চিঠিতে বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন, ‘কথিত আচরণ বিধির খড়গ নেমে আসে বিএনপির ওপর। ইসি সচিব গণমাধ্যমে আচরণ বিধি প্রতিপালনের কঠোর হুমকি দিয়ে তা লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করে। এটি একটি পক্ষপাতমূলক আচরণ।’ 

চিঠিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, '১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধি প্রতিপালনের নির্দেশনায় নেতা-কর্মী সমর্থকসহ জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দেওয়া বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক এবং ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বক্তব্যে ঘটনা ঘটানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করেছে। ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে; রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ৩৮ নেতাকর্মীকে। নির্বাচন কমিশনের চিঠির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির চরম বিঘ্ন সৃষ্টি, নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপ-কমিশনার এবং উদ্দেশ্যমূলক জারি করা পত্রের স্বাক্ষরকারী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনের আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হব।’ 

মির্জা ফখরুল ইসলাম

চিঠিতে যেসব দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো হলো: নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং পুলিশ সদর দফতরের মাঠ প্রশাসনের বদলি। নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পদে পদায়ন ও বদলিতে সিনিয়রিটি ও মেধাক্রম অনুসরণ করতে হবে। সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারদের প্রত্যাহার করে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদায়ন। ডিসি-এসপি ও মেট্রোপলিটন এলাকায় উপপুলিশ কমিশনার পদে দুই বছরের বেশি দায়িত্বপালনকারীদের প্রত্যাহার ও বদলি। ডিসি পদায়নে ফিট লিস্ট তৈরি এবং ইউএনও ও ওসিদের বর্তমান কর্মরত জেলার বাইরে বদলি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন বা আছেন এবং মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী/উপদেষ্টাদের পিএস ও এপিএস হিসেবে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পদে পদায়ন না করা। পক্ষপাতমূলত আচরণকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদান এবং জেলা প্রশাসনে অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপদেষ্টা (মেনটর) মনোনয়ন সংক্রান্ত আদেশ বাতিল।#

পার্সটুডে/ আশরাফুর রহমান/২০