জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বেশিরভাগ ইসলামী দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i65971-জাতীয়_সংসদ_নির্বাচন_বেশিরভাগ_ইসলামী_দল_আওয়ামী_লীগের_সঙ্গে
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠে এবার  ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত যা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এসব দলের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ এবং এর মিত্র জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একসময় বিএনপির ঘনিষ্ঠ অনেক ইসলামি দলও এবার ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে মিত্রতা গড়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ২০, ২০১৮ ১৪:৪৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠে এবার  ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত যা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এসব দলের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ এবং এর মিত্র জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একসময় বিএনপির ঘনিষ্ঠ অনেক ইসলামি দলও এবার ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে মিত্রতা গড়েছে।

এবার ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় আছে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৭০টি ইসলামি দল ও সংগঠন। এর মধ্যে ২৯টি দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ৩২টি দল আছে জাতীয় পার্টির সঙ্গে, যারা ভোটের মাঠে সরকারি দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে বল মনে করা হচ্ছে। আর বিএনপির সঙ্গে আছে ৫টি দল।

নির্বাচন কমিশনে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। এর মধ্যে ইসলামপন্থী দল ১০টি। এর মধ্যে ছয়টিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (নজিবুল বশর) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে, আর ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (বাহাদুর শাহ) মহাজোটের শরিক। বাকি চারটি দল ইসলামী ঐক্যজোট (নেজামী), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (হাবিবুর রহমান) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মান্নান) ও জাকের পার্টির (মোস্তফা আমীর) সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে আছে দুটি দল-খেলাফত মজলিস (ইসহাক) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (আবদুল মোমেন)।

নিবন্ধিত বাকি দুটি ইসলামী দল ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলন (আতাউল্লাহ) এখনো কোনো জোটে যায়নি।

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই পীর) ও ইসলামী ঐক্যজোট (আমিনী) ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এবার ইসলামী ঐক্যজোটের এই অংশ বিএনপির সঙ্গে নেই। জামায়াত নিবন্ধন ও প্রতীক হারিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন স্বতন্ত্র অবস্থানে আছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক দিন ধরে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট বিএনপির দিকেই বেশি যায়। এবার এই ‘ভোটব্যাংকের’ দিকে নজর দিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্র এরশাদের জাতীয় পার্টি। এ লক্ষ্য নিয়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও সরকার সখ্যতা গড়ে তুলেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

ইসলামী দলগুলোর জোট গঠন বা জোট বদল প্রসঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কে কোন উদ্দেশ্যে জোট পরিবর্তন করেছেন, নতুন নতুন ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছেন, এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষ অনেক সচেতন। আদর্শ বদল করে নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্য যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের কথায় মানুষ ভোটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে মনে করি না।’

 'ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করতে পারলে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকত ইসলামপন্থীরা'

এ প্রসঙ্গে চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমেদ আবদুল কাইউম রেডিও তেহরানকে কলেন, ইসলামপন্থী দলসমূহ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে একটি প্লাটফর্ম থেকে নির্বাচন করতে পারতো তবে তারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকত। তবে তারা যে যেখান ছুটাছুটি করুক না কেন তারা ইসলামের পক্ষেই থাকব বলে মনে করেন মাওলানা আবদুল কাইউম। তিনি আরো জানান ইসলামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্যই তারা এবার কোন জোটে না গিয়ে 'হাতপাখা' প্রতীক নিয়ে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

সরকারের সমর্থনে নতুন নতুন জোট

সর্বশেষ সম্মিলিত ইসলামী জোট নামে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয় ৩ নভেম্বর। এই জোটের শরিক দল আটটি। এই জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা জাফরুল্লাহ খান দীর্ঘদিন প্রয়াত মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ওই দলের মহাসচিবের পদ হারান। এরপর তিনি খেলাফত আন্দোলনের একাংশ নিয়ে নতুন দল করেন। এত দিন তাঁর অবস্থান ছিল সরকারের বিরুদ্ধে। চলতি মাসে জাফরুল্লাহ খান আটটি অনিবন্ধিত সংগঠন নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী জোট গঠন করেন। তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করতে চায়। জোটের নেতারা গত শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী জোটের কো-চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ১০টি আসনের প্রার্থী তালিকা দিয়েছি। ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমাদের জানাবেন।’

গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৫টি দল নিয়ে সরকারের সমর্থনে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) নামের আরেকটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান লক্ষ্মীপুর-১ আসনের তরীকত ফেডারেশনের সাংসদ এম এ আউয়াল। এই দু'জন দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। এই জোট সাতটি আসন চেয়ে সরকারের কাছে তালিকা দিয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদের বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও মুফতি রুহুল আমিনের নেতৃত্বাধীন খাদেমুল ইসলাম সরাসরি আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। মুফতি রুহুল আমিন সম্প্রতি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শুকরানা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত  দেন।

হেফাজতের একাংশ সরকারের মিত্র

অতীতে ইসলামি দলগুলোর বড় একটি অংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে সক্রিয় থাকত। এর ফল পেত বিএনপি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইসলামি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, এখন দলগুলোর মধ্যে বিভক্তিও বেড়েছে। কিছু দলের ওপর সরকারের চাপ ও নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার খড়্গ ঝুলছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে সরকার কওমি মাদ্রাসার আলেমদের একটা অংশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়িয়েছে।

৩৪ ইসলামী দল নিয়ে এরশাদের জোট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ‘সম্মিলিত ইসলামী মহাজোট’ নামে একটি ৩৪-দলীয় মোর্চার সঙ্গে জোট করেন। তাঁর এই জোট গঠন সরকারকে সহায়তার লক্ষ্যে বলে প্রচার আছে। এরশাদের জোটের দুটি দলের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন আছে। দল দুটি হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (হাবিবুর রহমান) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মান্নান)। বাকি দলগুলো অপরিচিত ও নামসর্বস্ব।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২০