বাংলাদেশের পুলিশের প্রতি সিইসির নির্দেশনা, ২০ দলের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর সশস্ত্রবাহিনীর ছোট ছোট টিম মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ সভায় এ কথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সিইসি জানান, প্রতি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম থাকবে। তাদের সঙ্গে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি করবেন না। ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করার কথা আমরা বলিনি। এটা আপনারা করবেন না। কারণ এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বিব্রত হোক এটা আমরা চাই না।
সিইসি আরো বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কারণে যেনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।
নির্বাচন কমিশনের আচরণ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ: ২০ দল
তবে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আজকেও অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের আচরণ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ; বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকার নানা কলাকৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের এই দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের জন্য সাবেক অনেক সচিবকে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের নামে তাদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের উচিত অনতিবিলম্বে তাদের এই নিয়োগ বাতিল করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন ঘটানো।’
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরও বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলেও মন্তব্য করেন অলি আহমদ।

পুলিশের শীর্ষ ৭০ জন কর্মকর্তার বদলি চেয়েছে বিএনপি
ওদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পুলিশের শীর্ষ ৭০ জন কর্মকর্তার বদলি চেয়েছে বিএনপি। পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ প্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তার বদলি চেয়েছে বিএনপি। তাদের বিতর্কিত উল্লেখ করে দ্রুত প্রত্যাহার করে নির্বাচনে তাদের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে এসব দাবি জানিয়েছে।
এ সময় সাংবাকিদকের প্রশ্নের উত্তরে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনে সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন