মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতার লাশ মিলল বুড়িগঙ্গায়, রিজভীর ক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66037-মনোনয়নপ্রত্যাশী_বিএনপি_নেতার_লাশ_মিলল_বুড়িগঙ্গায়_রিজভীর_ক্ষোভ
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য ঢাকায় এসে নিখোঁজ হওয়ায় বিএনপি নেতা আবু বকর আবুর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গা নদীতে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ২২, ২০১৮ ২১:০৬ Asia/Dhaka
  • আবু বকর আবু - রুহুল কবির রিজভী
    আবু বকর আবু - রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য ঢাকায় এসে নিখোঁজ হওয়ায় বিএনপি নেতা আবু বকর আবুর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গা নদীতে।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে বুড়িগঙ্গা নদীর ফরিদাবাদ ডকইয়ার্ড বরাবর নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। বুধবার রাতে তার স্বজনরা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

তিনি বলেন, “লাশ অনেকটাই পচে গেছে। পরনে ছিল স্যান্ডো গেঞ্জি আর পাজামা। তার ভাগ্নে আর ভাতিজা তাকে আবু বকর আবু হিসেবে শনাক্ত করেছেন।”

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ ঘটনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, “আবু বকর আবু বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য ঢাকার একটি হোটেলে তিনি ছিলেন। গত রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নেওয়ার পর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুড়িগঙ্গা নদীতে তার লাশ পাওয়া গেছে। একজন জনপ্রতিনিধি আবু বকর আবুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয় হত্যাকারীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে এভাবেই একজন আন্দোলনকারীর লাশ ভেসে উঠেছিল বুড়িগঙ্গায়।”

সরকার এখন আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আবু বকর আবুর মতো জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে হোটেল থেকে তুলে নেওয়া হলো, আর গায়েব করে হত্যা করার মাধ্যমে তার লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলা দেওয়া হলো। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এজেন্সির মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। প্রতিদিনই বিএনপি নেতা-কর্মীদের গুম করা হচ্ছে। হত্যা করে লাশ নদী, খাল-বিল কিংবা রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।”

নিহতের পরিবারের সদস্য ও বিএনপি নেতারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবু বকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় আসেন। পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের চতুর্থতলায় ৪১৩নং রুমে ছিলেন। সেখান থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে ও জমা দেন। সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেয়ার জন্য ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। ১৮ নভেম্বর রোববার রাত ৮টার দিকে তার সঙ্গী মজিদপুর ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম ওষুধ কিনে ফিরে এসে তাকে আর রুম পায়নি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে অবস্থানরত তার এক ভাগনের মোবাইলে কয়েকবার মিসকল আসে। প্রত্যেকবার ব্যাক কলে শুধু হ্যালো ‘হ্যালো’ ছাড়া কোনো কথা হয়নি। এরপর ০৯৬৩৮৮৮৮২০২ নম্বর মোবাইল থেকে ওই ভাগ্নের কাছে ফোন দিয়ে তার মামার জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ জন্য ওই রাতে কয়েকটি বিকাশ নম্বরও সরবরাহ করেন তারা। কিন্তু রাত ১২টার পর বিকাশের ট্রানজিট বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার সকালে অপহরণকারীরা ০১৭৪৮১১০৫৭৭ নম্বর মোবাইল থেকে পুনরায় যোগাযোগ করে। এরপর তাদের দেয়া বিভিন্ন নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়। পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে অপহরণকারীরা দেড় লাখ টাকার প্রাপ্তি স্বীকার করে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

বহু অনুরোধের পর অপহরণকারীরা ২০ হাজার টাকা বিকাশ করার জন্য দুটি নম্বর সরবরাহ করে বলেন, ওই টাকা পাওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যে আবু বকর আবুকে ওই হোটেলের সামনে ছেড়ে আসা হবে। সাড়ে ১০টার দিকে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করার পরও তাকে ছাড়া হয়নি এবং তারা আর মোবাইল রিসিভ করেনি। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অপহরণকারীদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আবু বকর আবুর মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল।

নিহত আবু বকর আবু যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২