আমরা মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই: অলি আহমেদ
-
বক্তব্য রাখছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ
বাংলাদেশের ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, 'জোট ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো নির্যাতন করা হবে না। কারণ তারা প্রশাসনের বাধ্যগত কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন।’
আজ (শনিবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ, আসন্ন নির্বাচনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ আমরা বসে বসে কলা খাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি।
নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিএনপিকে বলেছি জোটের প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে বানরের পিঠা ভাগ করার মতো করবেন না। যোগ্য প্রার্থীদের অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।
অলি আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে সংবাদকর্মীদের গলা চেপে রাখা হয়েছে ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই ডিজিটাল আইন সংশোধন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক দেউলিয়া, কিছু সংখ্যক লোক ব্যংকের টাকা লুটপাট করে নিয়ে বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়ে চলে গেছে। আবার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী একমাত্র একাত্তরের শহীদদের মুক্তিযোদ্ধা মনে করেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া যায় না। দলীয় আনুগত্য প্রকাশ করলেই চাকরি পাওয়া যায়। তাই অনেকে বাঁচার তাগিদে দলীয় আনুগত্য স্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে এখন দেশকে মুক্ত করার তাগিদে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই। এ কারণে এখন থেকে আমাদের নিজ নিজ এলাকায় অধিক প্রচারণা চালাতে হবে। কারণ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদেরকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে হবে।’
আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকারকে এই কথা বলছি, আসেন মাঠে আসেন, এত ভয় পায়েন না। বুঝতে পারছি, আপনাদের হাঁটু কাপা শুরু হয়েছে। সরকারের ব্যবহার দেখে এটা সবাই বুঝতে পারছেন, সরকারের ভিত নড়ে গেছে।’
জাফরুল্লাহ আরও বলেন, ‘২০১৮ সনের নির্বাচনটা অন্য নির্বাচন থেকে ভিন্ন। এবার জনগণ মুখ খুলেছে। গণতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে অঙ্গীকার আমরা দিয়েছিলাম তার জবাব দিতে চাই, জবাব নিতে চাই। ’
মুক্তিযোদ্ধা দলের আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বেগম জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই কথার মধ্যে কোনো ভুল নেই। এই কথা খুবই সত্যি। কিন্তু তার মানে বেগম জিয়া জেল থেকে না বের হলে আমরা নির্বাচন করবো না তা কি বলছি? বলছি, এমন কৌশল নেব, এমনভাবে লড়াই করব যাতে শত্রুকে পরাজিত করতে পারি। ’
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, কর্নেল (অব.) মনির দেওয়ান প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন