ভাগ্নে নৌকার প্রার্থী হওয়ায় সিইসির পদত্যাগ চাইলেন রিজভী
-
রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ভাগ্নে এস এম শাহজাদা সাজু আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাড়পত্র পাওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছে বিএনপি।
আজ (সোমবার) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে (আপন বোনের ছেলে) এস এম শাহজাদা সাজু। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি যে, ভাগ্নে সাজুর মনোনয়নের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি উচ্চ নৈতিক মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে স্বীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।’
এর আগে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনও সিইসিকে সরে যেতে বলেন। গণফোরাম সভাপতি কামাল বলেন, “চিফ ইলেকশন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট হতে পারিনি বলে আমাদের একটা দাবি হল উনার পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হওয়া উচিত।”
একই বিষয়ে আজ রিজভী অভিযোগ করেন, সিইসিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই তার ভাগ্নেকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের স্মরণে আছে ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ডক্টর শাহ মোহাম্মদ ফরিদ স্বেচ্ছায় মুখ্য সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যাতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন কোনোভাবেই উঠতে না পারে। কারণ সেই নির্বাচনে তার ভাই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় কথা বলে আসছেন ইসি সচিব হেলালুউদ্দীন, দ্রুত ‘দলবাজ’ ইসি সচিবকে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। কারণ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিরামহীন রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিগত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের রূপকার ইসির তৎকালীন সচিব বর্তমান পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের পরামর্শে নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করেন হেলালুউদ্দীন। ক্ষমতাসীন মহলের অন্দরে অবাধ বিচরণ নির্বাচন কমিশন সচিবের।’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, রোববার যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় বিএনপির উঠান বৈঠকে পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূবের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেয়ার বিষয় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া আলাপ-আলোচনা চলছিল।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন