শূন্য আসনে বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি'র
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66827-শূন্য_আসনে_বিকল্প_প্রার্থীকে_সমর্থন_দেয়ার_সিদ্ধান্ত_বিএনপি'র
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চ আদালতের রায়ে যে সব আসনে বিএনপি’র প্রার্থীতা বাতিল হয়ে গেছে সেখানে বিকল্প প্রার্থী বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো থেকে বিকল্প প্রার্থী পাওয়া না গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ ১৩:০৯ Asia/Dhaka
  • শূন্য আসনে বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি'র

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চ আদালতের রায়ে যে সব আসনে বিএনপি’র প্রার্থীতা বাতিল হয়ে গেছে সেখানে বিকল্প প্রার্থী বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো থেকে বিকল্প প্রার্থী পাওয়া না গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

সোমবার রাতে দলের হাইকমান্ডের একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গতকাল  চেম্বার জজ আদালত বিএনপির সাত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রখেছে।  

আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া বিএনপি'র প্রার্থীরা হলেন-জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবির তালুকদার, জয়পুরহাট-১ আসনের মো. ফজলুর রহমান, ঝিনাইদহ-২ আসনের এম এ আব্দুল মজিদ, রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাঈদ চাঁদ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৪ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন। এছাড়া, ময়মনসিংহ-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হাসান সুমনের মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।

বিএনপি’র দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবু আশফাক। উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে আইনি জটিলতায় সর্বোচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে। সেখানে বিএনপি, ২০ দল বা ঐক্যফ্রন্টের এখন কোনো প্রার্থী নেই। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম (এমপি)কে বিএনপি জোট সমর্থন দিয়েছে।

ঢাকা-২০ আসনে ধানের শীষের তমিজউদ্দিনের জায়গায় বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। এই আসনটিতে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডির এম এ মান্নান তারা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাকেই সমর্থন দেবে ঐক্যফ্রন্ট। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ঋণখেলাপির কারণে আফরোজা খান রীতার মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে। সেখানে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম খান কামালকে সমর্থন দিতে পারে বিএনপি।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি জটিলতায় সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েও তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। সেখানে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে মো. মুকাব্বির খানকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি।

জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী করা হয় ফজলুর রহমানকে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থাকা সংক্রান্ত  আইনি জটিলতায় সর্বোচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। সেখানে বিএনপির ফয়সাল আলিম নামে আরেক প্রার্থী বৈধ আছেন। এখন ধানের শীষের প্রতীক তাকে দেওয়ার জন্য তোড়জোড় চলছে।

নাটোর-১ আসনে আইনি জটিলতায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মনজুরুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হয়। সেখানে বিএনপির শিরিন আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।

রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন আবু সাইদ চাঁদ। উপজেলা চেয়ারম্যান জটিলতায় সর্বোচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ওই আসনে বিএনপি প্রার্থীশুণ্য হয়ে পড়ে। ওই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দল বা স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীও নেই। তাই ওই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন বা ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রাথী বাবুল ইসলামকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি।

ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন আবদুল মজিদ। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। ওই আসনে বিএনপি, ২০ দল বা ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই। সেখানে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের আসাদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ফখরুল ইসলাম ও জাকের পার্টির আবু তালেব সেলিম প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বাসদের প্রার্থী আসাদুল ইসলামকে বিএনপি জোট সমর্থন দিতে পারে।

বগুড়া-৩ আসনে ধানের শীষের আবদুল মহিত তালুকদারের জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন (আপেল) এবং আবদুল মজিদের (ডাব) মধ্যে কোনো একজনকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

ব্রাম্মণবাড়িয়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেনে মনোনয়ন দেওয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে। কিন্তু তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ওই আসনে বিএনপির বৈধ প্রার্থী নাছির উদ্দিন হাজারী লড়ছেন। এ নিয়ে তিনি আদালতে রিট করে ধানের শীষ প্রতীক চাইবেন বলে জানিয়েছেন। রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন নাদিম মোস্তফা। আদালতে  তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায়  সেখানে বিএনপি থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলকে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী দেওয়া হয় সালেক চৌধুরীকে। তিনিও সর্বোচ্চ আদালতে হেরে যান। সেখানে বিএনপি'র আরেক প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতেই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক থাকছে। আইনি জটিলতায় মানিকগঞ্জ-১ আসনে এস এ কবীর জিন্নাহর পরিবর্তে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।

চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এম এ হান্নান। কিন্তু উচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে যায়। সেখানে বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসুও বৈধপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তাকে নিয়ে বিএনপি এখন চিন্তাভাবনা করছে।

বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মোর্শেদ মিল্টন। সেখানে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই। ওই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এনপিপির ফজলুল হক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মোনতেজার রহমান। বিএনপি এই দুইজন থেকে একজনকে বেছে নিতে পারে।

জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই আসনে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে গণফোরামের ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হককে বিএনপি সমর্থন দেওয়ার চিন্তা করছে।

দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল নামে বিএনপির আরেকজন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এ নিয়ে দুলাল রিটও করেছেন। উচ্চ আদালতে এ নিয়ে শুনানির রায়ের পর বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৫