ইসির বৈঠক বর্জন ঐক্যফ্রন্টের: যে যা বললেন
-
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আজকের নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিয়ে মাঝপথে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১২টার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে কমিশন ভবনে বৈঠকে অংশ নেন এবং আলোচনা আসমাপ্ত রেখেই দেড়ঘণ্টার মাথায় বেরিয়ে আসেন।
কমিশনের সঙ্গে সভা বর্জনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, "সিইসি’র আচরণ কোনো ভদ্রজনোচিত ছিল না। আমরা পুলিশের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার কথা জানালে তিনি কোনো সহানুভূতি না জানিয়ে হঠাৎ করেই পুলিশের পক্ষে অবস্থান নেন। তাই আমরা থেকে চলে এসেছি।"
বৈঠক বর্জন করে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে কে এম নূরুল হুদার (সিইসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে বলেন, গতকাল থেকেই অবস্থার বেশি অবনতি হতে শুরু করেছে, কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না। ইসি ও সরকার যৌথভাবে বিরোধী জোটের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবো না।’
বৈঠকের বর্ণনা দিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে সিইসিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, সিইসি বর্তমানে প্রধান বিচারপতির চেয়েও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনার এই লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী আমাদের মিটিং-মিছিল কিছুই করতে দিচ্ছে না। এমনকি বেলা দুইটার পর মাইক ব্যবহারের জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার জোটেরা নিয়মকানুন না মেনে পুলিশের সহায়তায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী আমাদের ওপর হামলা করছে। আমাদের প্রার্থীদের জীবনের দাম না থাকলেও কর্মীদের জীবনের দাম রয়েছে। তাদের তো সেভ করতে হবে। এ সময় বিএনপি নেতা ড. মঈন খান সিইসিকে বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ যদি সৃষ্টি করতে না পারেন, তাহলে বলে দেন, আমরা আজকেই প্রেস ক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের বিষয়ে ঘোষণা দেব।
কামাল হোসেন মাস্তানি করেছেন: এইচ টি ইমাম
এদিকে, আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমাম অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন মাস্তানি করেছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।
বৈঠকে কী হয়েছিল, সে বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করতে করতে এক পর্যায়ে ড. কামাল হোসেন ক্ষেপে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের কোনো এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘জানোয়ার’ বলেছেন। সিইসি তাৎক্ষণিকভাবে তার এমন ভাষা ব্যবহারে প্রতিবাদ জানান।
ড. কামালকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি এই শব্দ কেন এ রকমভাবে ব্যবহার করলেন? এমন ভাষা আপনার মুখে শোভা পায় না।
আওয়ামী লীগ নেতা এইচ টি ইমামের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. কামালকে সিইসি বলেন, এখানে যে একজন পুলিশ সদস্যকে জানোয়ার বললেন, এটি কী শোভনীয়? এটি কী আশা করা যায়? এরপর যা ঘটেছে তা হলো- ড. কামাল হোসেন জোরে জোরে টেবিল চাপড়িয়েছেন। এর আগেও তো তিনি সাংবাদিকদের ‘খামোশ’ বলেছেন। তখন সিইসি ও অন্যরা বলেন, আমরা অপমানিত বোধ করছি। আপনারা না থাকলেই ভালো। কাজেই এই ইসির সঙ্গে বৈঠক জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বয়কট করেননি বরং তারা বৈঠকে তারা এক রকম মাস্তানি করেছেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন