ড. কামালের মুখের বিষ ফরমালিনের চেয়েও ভয়ঙ্কর: ওবায়দুল কাদের
-
নির্বাচনী জনসভায় ওবায়দুল কাদের
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মুখের বিষ ফরমালিনের চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ (বুধবার) কুমিল্লার মিয়াবাজার কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কুমিল্লা-১১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “ড. কামাল হোসেনের মুখের বিষ ফরমালিনের চেয়েও ভয়ংকর। সিইসির পদত্যাগ নয়, ঐক্যফ্রন্টের ব্যর্থ নেতা হিসেবে আপনার পদত্যাগ করা উচিত।”
গতকাল (মঙ্গলবার) নির্বাচনের পরিবেশ বিষয়ে নানা অভিযোগ নিয়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। কিন্তু সিইসির আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে মাঝপথে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। পরে সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চান। এর মাসখানেক আগে কামাল হোসেনও সিইসি পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন।
এ বিষয়ে ড. কামালের উদ্দেশে আজ ওবায়দুল কাদের বলেন, “যার পদত্যাগ চাইলেন তার সাথে কেন বৈঠক করতে গেলেন?”
কাদের আরও বলেন, 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন পুলিশকে বলেন জানোয়ার, সাংবাদিকদের খামোশ। এই যার আচরণ তা পাকিস্তানি। তার শ্বশুরবাড়ি পাকিস্তান, তার মানসিকতা পাকিস্তানি। তাই তাকে পাকিস্তান ফিরে যাওয়া উচিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপনার কোনো জায়গা নেই।'
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া সমৃদ্ধি হয় না। আমরা ষড়যন্ত্র করে, বন্দুকের নল উঁচিয়ে কখনও ক্ষমতায় আসিনি। যতবারই এসেছি জনগণের ভোটে। আপনারা নির্বাচনে আসেননি সেটি কি জনগণের অপরাধ, সেটি কি আমাদের অপরাধ?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে না এসে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি করেছেন। তাতে কি গণতন্ত্র থেমে গেছে?
সিইসির পদত্যাগ দাবি নির্বাচন ভণ্ডুলের অপকৌশল: নানক
এদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শুরু থেকেই নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য কৌশল নিয়েছে। ভোটের মাত্র তিনদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবি নির্বাচন ভণ্ডুল করার অপকৌশল মাত্র।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তেরে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, 'তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) আসলে কী করতে চায় আমরা এবং দেশবাসী তা বুঝতে পারছি না। তারা একবার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বলছে তাদের প্রার্থী মাঠে নামছে না, কখনও বলছে নির্বাচনে থাকবে- আমরা মনে করি এগুলো তাদের অপকৌশল। এসব নির্বাচন ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র।'
এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে নানক বলেন, 'নির্বাচনে থাকা না থাকা যার যার ব্যাপার। কেউ নির্বাচনে না থাকলে তাতেও কোনো সমস্যার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।'
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুর সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন