আমরা দেখাতে চাই- আ. লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না: ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66872-আমরা_দেখাতে_চাই_আ._লীগের_অধীনে_নির্বাচন_সুষ্ঠু_হতে_পারে_না_ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু হতে পারে না। তবে, আমরা নির্বাচনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকতে চাই। এটা আমরা বলেছি বারবার। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের সভায়।’
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮ ০৮:৫৬ Asia/Dhaka
  • আমরা দেখাতে চাই- আ. লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু হতে পারে না। তবে, আমরা নির্বাচনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকতে চাই। এটা আমরা বলেছি বারবার। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের সভায়।’

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শহরের কালিবাড়ি নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব পুলিশ বলেন, ‘এখন নির্বাচনের কোনও পরিবেশ নেই। কয়েকদিন ধরে দেখছি আমাদের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা করছে আওয়ামী লীগ। আমরা দেখছি, সারা দেশে নির্বাচনের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, আক্রমণ হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রশ্রয়ে, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা এসব কাজ করছে। তারা এমন পরিবেশ সৃষ্টি করছে যাতে ভোটাররা কেন্দ্রে না যেতে পারেন।‘

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রশাসন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করে বলেছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে কেউ যেন না দাঁড়ায়। এখানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াচ্ছে? এখানে দাঁড়াচ্ছে নির্বাচনের জন্য, একটা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে প্রচারও করা যাবে না, নির্বাচনী আইন ও বিধির মধ্যে এটা তো কোথাও বলা নেই।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে কিছুদিন আগেও এসেছিলাম তখন পর্যন্ত নির্বাচনের কিছুটা সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল। কিন্তু বুধবার রাতে আসার পরে এখানে যা দেখলাম প্রকাশ্যে বড় বড় রামদা নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এই আসনটি আমার হওয়ায় তারা এখানে এমনটা করছে বলে আমার মনে হয়।’

এর আগে বুধবার রাতে রংপুরের মডার্ন মোড়ে রংপুর-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী রিটা রহমানের নির্বাচনী পথসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের  যোগসাজসে ৫০ নেতার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। সরকারের লোকেরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের ওপরও হামলা হচ্ছে। রক্তাক্ত করা হচ্ছে। এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। তবুও আমরা নির্বাচনে আছি। এটি বিএনপির আন্দোলনের অংশ।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রায় চার হাজার মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে পাঁচ লাখের মতো। আওয়ামী লীগ সরকারের গত পাঁচ বছরে ৯৮ হাজার মামলা হয়েছে। এখনও প্রতিদিন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই। জনগণ পরিবর্তন চায়।’

রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, রংপুর-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রিটা রহমান, রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু প্রমুখ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন