নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার হাজির; পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারি
-
বেগম খালেদা জিয়া
নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ (রোববার) দুপুরে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজিরা দেন তিনি। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ চলছে। আজ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। পরে, আরও শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।
বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
এদিকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিদের ৪৪টি জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট।
আজ (রোববার) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। তিনি বলেন, কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেছেন। এরমধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড পাওয়া আসামিরা রয়েছেন। আজ তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদণ্ড স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতের নথি তলব করেছেন। এখন মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হবে।
গত ১০ অক্টোবর এ ঘটনায় করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে অপর ১১ আসামিকে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৩
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন