মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ ৭ মার্চ: ঐক্যফ্রন্টের ক্ষতি হবে না- ড. মোশাররফ
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনীত হয়ে সিলেট আঞ্চল থেকে বিজয়ী গণফোরামের দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান আগামী ৭ মার্চ শপথ নিতে যাচ্ছেন। শনিবার দুপুরে তারা জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুলতান মনসুর।
সংসদ নির্বাচনে গণফোরামে যোগ দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর। আর মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে বিজয়ী হন। ওই আসনে ধানের শীর্ষের প্রার্থী না থাকায় বিএনপি তাকেই সমর্থন করেছিল।
নির্বাচনে জয়ী হয়েও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এতদিন শপথ গ্রহণ করেন নি। সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ নেয়ার ঘোষণা দিলেন।
উল্লেখ্য, কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পায় বিএনপি। নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে দলটি। নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং গনফোরামকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮টি আসন লাভ করে।
এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ী দু’জন প্রার্থী শপথ নিয়ে সংসদে গেলে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে তিনি এও বলেছেন যে, যদি কেউ সংসদে যায় তাহলে ঐক্যফ্রন্টের ক্ষতি হবে না।
আজ (রবিবার) সকালে, রাজধানীতে বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে কৃষকদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটির শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।
বিএনপির এ নেতা উল্লেখ করেন, ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত সংসদে না যাওয়ার পক্ষে। এটা নিয়ে আমাদের কোনো মতামত নেই। গণফোরাম তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, ঐক্যফ্রন্টের দুই নেতা বলেছেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই তারা শপথ নিতে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মোকাব্বির খান বলেছেন, তিনি জোটের প্রতীক নয় দলের প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাই জোটের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো নৈতিক বা সাংগঠনিক ভিত্তি নেই।
এ প্রসঙ্গে ড. মোশাররফ হোসেন ব্যাখ্যা করে বলেছেন, আমরা একটা বড় টার্গেট নিয়েঐক্যফ্রন্ট করেছি। অতএব এ ব্যাপারে আমি বিশ্বাস করি যদি কেউ সংসদে যায় ঐক্যফ্রন্টের কোনো ক্ষতি হবে না।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি এই নির্বাচনকে বয়কট করেছে। যেহেতু নৌকা ছাড়া কোনো প্রার্থী নেই সেহেতু নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে দিলেই নির্বাচনের নাটক শেষ হয়ে যায়। তাই ভোটের নামে জনগণের নয় কোটি টাকা অযথা ব্যয় না করার পরামর্শ দেন তিনি।
ওদিকে, নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
শনিবার (০২ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মার্শাল ল’র মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার কারণেই বিএনপি জনগণকে ভয় পায়।’
অপরদিকে, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া ও সহযোগিতার অভিযোগে বগুড়া জেলা বিএনপির ২৩ নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের বিশেষ সভায় ওইসব নেতার নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করবে জেলা বিএনপি।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/৩
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন