খালেদা জিয়ার জামিন: সরকার ও বিএনপি'র পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i71333-খালেদা_জিয়ার_জামিন_সরকার_ও_বিএনপি'র_পাল্টাপাল্টি_বক্তব্য_এবং_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত প্রায় দেড় বছর যাবত কারাবন্দি রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ ৭৩ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ বর্তমানে কারা হেফাজতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১৯, ২০১৯ ১৩:৩৭ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত প্রায় দেড় বছর যাবত কারাবন্দি রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ ৭৩ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ বর্তমানে কারা হেফাজতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৪টি এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের গত দশ বছরে ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়। এ সব মামলার মধ্যে দুর্নীতির দু’টি  মামলায়  সাজা দেয়া হয়েছে, ১৬টি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। আর বাকি মামলার কোনোটিতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, কোনোটি তদন্তের পর্যায়ে আছে।

এ সকল মামলা জামিনযোগ্য হওয়া সত্বেও নিম্ন আদালতে জামিন হয় নি; পরে হাইকোর্টে গিয়ে জামিন নিতে হয়েছে। আবার হাইকোর্টে জামিন হলেও তার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ ও দুদক আপিল করে তা আটকে দিয়েছে। আবার সেটি নিয়ে আপিল বিভাগে আইনী লড়াই করে জামিন আদায় করতে করতে পূর্বের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফের আদালতের দারস্থ হতে হয়েছে।

এ ছাড়া, বেগম জিয়াকে দুটি মামলায় কারাদন্ড দিয়ে জেলে আটকের পরও নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতারে হুকুম দিয়েছে নিম্ন আদালত। বেগম জিয়া যে জেলে আছে সেটাই যেন নিম্ন আদালত জানে না। আর পুলিশও সে সব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে মাসের পর মাস সময়ক্ষেপণ করেছে। এ নিয়ে আবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বেগম জিয়ার আইনজীবিদের।  এভাবে আইনি মারপ্যাচে মাসের পর মাস কেটে গেলেও বেগম জিয়া জামিনেও মুক্তি পাচ্ছেন না।

এদিকে, বিএনপি’র নেতা এবং বেগম জিয়ার আইনজীবিরা বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, সরকার  রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনেই  সাজানো মামলায় বেগম জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন। এমনকি ততত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতর অভিযোগে যে সব মামলায় বেগম জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে সেগুলিতে  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অভিযুক্ত থাকা সত্বেও ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাসীন  হয়ে তিনি আদালতের মাধ্যমে বেকসুর খালাস পেয়ে যান। 

তবে আওয়ামীলীগের নেতারা  বলছেন, বেগম জিয়াকে শাস্তি দিয়েছে আদালত; তাকে আটকে রেখেছে আদালত; এতে সরকারের কিছু করণীয় নেই।

গতকাল মানহানির দুই মামলায় আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দিলে তার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একই মন্তব্য করেছেন। এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকার বাধা হয়ে  না দাড়ালে বেগম জিয়া আইনী প্রক্রিয়াতে অচীরেই মুক্তি পাবেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিচারাধীন সবগুলি মামলায় তার জামিন হয়েছে। যে দুটো মামলায় কারাদন্ড দেয়া হয়েছে সেগুলোতে জামিন পেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।

এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার নথি আসা সাপেক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তবে সেই নথি এখনো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ থেকে আসেনি। হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে ওই নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

এছাড়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দশ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানিয়েছেন,  নথির জন্য গতকাল মঙ্গলবারও যোগাযোগ করেছি। আশা করি এ সপ্তাহের মধ্যে নথি পেয়ে যাব।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া কারাবন্দি থাকা  আবস্থায়  বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে কি করে আরো বেশি দিন জেলখানায় রাখা যায় সে ব্যবস্থা সরকার করেছিল।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আছে জামিনযোগ্য মামলা যদি হয় তাহলে জামিন দিতে বাধ্য আদালত। কিন্তু তারপরও দেয়নি। কেন দেয়নি তা আমরা জানি । রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এমবিএ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।