বাংলাদেশে ৬ মাসে ‘ক্রসফায়ারে’ ১৯৩ জন নিহত, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ক্রসফায়ারে’ ১৯৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’।
২০১৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের প্রধান জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংস্থাটি গতকাল এই তথ্য দিয়েছে।
সংস্থাটির হিসাব মতে, গত ছয় মাসে র্যাবের ক্রসফায়ারে ৫৯ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ৯২ জন, ডিবির ক্রসফায়ারে ১২ জন, যৌথবাহিনীর ক্রসফায়ারে একজন, কোস্টগার্ডের ক্রসফায়ারে একজন, বিজিবির ক্রসফায়ারে ২৮ জন, পুলিশের নির্যাতনে দুইজন, পুলিশের গুলিতে দুইজন, বিজিবির গুলিতে তিনজন ও পুলিশের হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন একজন। এ ছাড়া, দুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার ও র্যাবের হেফাজতে অসুস্থ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এসব ঘটনায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর ব্যাখ্যা একই। অর্থাৎ- আসামি ধরতে গেলে বা আটকের পর তাকে নিয়ে রাতের বেলা অস্ত্র উদ্ধারে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা গুলি চালায় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরিণতি- বিনা বিচারেই মারা যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। আর তার পেছনে নেপথ্য অপরাধীরা আড়ালে থেকে যায়।
ইতোমধ্যে, বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাতহত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কক্সবাজারে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী গত দু’দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির রেডিও তেহরানকে বলেন, এভাবে বিনা বিচারে হত্যা চলতে থাকলে দেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতেই থাকবে। এসব ঘটনার মাধ্যমে মূলত: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিচার বিভাগকেই অবজ্ঞা করা হচ্ছে। তাই সরকারের উচিত বিচারবহির্ভূত সকল হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করা এবং বাহিনীগুলির জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।
তবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বরাবরই বলে আসছেন, দেশে কোএনা বিচারবহির্ভূত হত্যা হচ্ছে না। গতরাতে বরগুনায় নয়ন বন্ড নামের চিহ্নিত অপরাধী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একইভাবে পুলিশের ভাষ্যকেই সমর্থন করেছেন।
ওদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ছয় মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেফতারের আগে ক্রসফায়ারে মারা গেছেন ১৫১ জন ও গ্রেফতারের পরে ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন ৪২ জন।
এই সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ৯ জনকে আটক করার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। এদের মধ্যে দুজন ফেরত এসেছেন ও একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাহিনীগুলো আটকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর বাইরে কারা হেফাজতে আরো ৩০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। এদের মধ্যে দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ১০ জন ও বিচারধীন মামলার আসামী ২০ জন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২