গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: হাইকোর্টে ক্যাব এবং সরকার ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আজ একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেছে। আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির তারিখ নির্ধারণের ঘোষণা দেন।
গত ১ জুলাই গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরে তা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে ক্যাব। ক্যাবের পক্ষ থেকে আগের রিটের সঙ্গে সম্পূরক আবেদন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
তিনি জানান, প্রথমবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আদেশের বিরুদ্ধে রিট করলে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ওই রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আবারও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করে গত ১১ই মার্চ থেকে ১৪ই মার্চ পর্যন্ত গণশুনানি গ্রহণ করা হয়; যা ছিল বে-আইনি।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, জ্বালানিখাতে কী পরিমান দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেন আদালতের মাধমে জানতে চাওয়া হয়েছে।
ক্যাবের জ্বালানী উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানী খাতের দুর্নীতি রোধ করা গেলে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাছাড়া, বাম গণতান্ত্রিক জোট গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী রোববার সারাদেশ আধাবেলা হরতাল ডেকেছে। হরতালের সমর্থনে বাম জোটের পক্ষ থেকে জনসংযোগ, প্রচার মিছিল ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলছে।
এ ছাড়া, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা রোববারের হরতালে সমর্থন জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। একই সাথে গ্যাসের দাম কমানো বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রজোটের সমন্বয়ক জানান, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। মনভোলানো বক্তব্য দিলেও বাজেটে শিক্ষাখাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হয়নি ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা রোববারের হরতালের সমর্থনে ক্যাম্পাসে মিছিল করে। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে কলাভবন প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিকে সমর্থন করে বলেছেন, যদিও এতে জনগনের মধ্যে কিছুটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটেছে; কিন্তু তারা হরতাল সমর্থন করবে না।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই সরকার গ্যাসের দাম বাড়ায়। এতে আবাসিকে এক চুলার দাম ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯২৫ টাকা ও দুই চুলা ৮শ থেকে হয়েছে ৯৭৫ টাকা। এ ছাড়া গৃহস্থালি কাজে মিটারভিত্তিক গ্রাহকদের জন্য দাম বেড়েছে ঘনমিটার প্রতি ১২ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে প্রতি ঘনমিটারে বেড়েছে ৯ টাকা ৮০ পয়সা।
এছাড়া যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৩ টাকা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প, চা-বাগান ও বাণিজ্যিক খাতেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম চার টাকা ৪৫ পয়সা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা, সার কারখানায় চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং শিল্প কারখানা ও চা-বাগানে ১০ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক খাতে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২৩ টাকা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/এমবিএ/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।